প্রতারণা ও অস্ত্র আইনের মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতা ৭ দিনের পুলিশ হেফাজত
*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* জমি সংক্রান্ত প্রতারণা এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে রবিবার হিরাপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলো তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সৈয়দ ইকবাল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৌরতলা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ ইকবালকে রবিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়। হিরাপুর থানার ধৃতর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বিএনএসের একাধিক ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসানসোলের রেলপারের জাহাঙ্গির মহল্লার বাসিন্দা আবদুল্লাহ সদর দায়ের করা এফআইআরে বলেছেন যে ২০২০ সালে সদর আলম মোহাম্মদ খলিল এবং নেহাল খান গীতা দেবী বর্মণ এবং আরও ৭ জন মালিকের সঙ্গে জামুরার নিঘা এলাকায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রয়-বিক্রয়ের একটি চুক্তি করেছিলেন।














২০২২ সালে, জমির মালিকরা অভিযোগকারী এবং অন্যদের জমিটি বিক্রি করার জন্য একটি উন্নয়ন পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন। জমির মালিকদের ৮ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং আরও ৮০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা বাকি ছিল। গত ১৮ জুন সন্ধ্যায়, অভিযোগকারী বার্নপুরের রহমতনগরে অভিযুক্ত নেহাল খানের বাড়িতে আসেন। সেখানে নেহাল খান, সদর আলম এবং নেহাল খানের বড় ভাই সৈয়দ ইকবাল তাকে বন্দুক দেখিয়ে টাকা চাইতে বার্নপুরে এলে গুলি করার হুমকি দেয়। এই ভয়ে অভিযোগকারী পালিয়ে যান। এরপর তিনি ২০ জুন হিরাপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ এই মামলায় এখন নেহাল খান এবং সদর আলমকে খুঁজছে।

সোমবার ধৃত সৈয়দ ইকবালকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আসানসোল আদালতে সিজেএমের এজলাসে পেশ করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বিচারক ধৃতর জামিন নাকচ করে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন। পুলিশের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে যে রিমান্ড চলাকালীন ধৃতকে কলকাতা, মুঙ্গের ও ধানবাদে নিয়ে যাবে। যেখানে তার কথা মতে সেদিনের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হবে।
পুলিশের দাবি, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে বার করা এবং অবৈধ অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই আদালতের কাছে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছিলো। বিচারক ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।পুলিশ আরো জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


