ASANSOL

কারখানায় কর্মীর আঙুল কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা সালানপুরে ক্ষতিপূরণের দাবিতে গেট আটকে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কারখানায় কাজ করার সময় এক ঠিকা কর্মীর আঙুল কেটে গুরুতর আঘাত লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল আসানসোলের সালানপুর থানার দেন্দুয়ায় বেসরকারি ‘রামদূত মেটেলয়েস প্রাইভেট লিমিটেড’ কারখানায়। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও কর্মী সুরক্ষার দাবিতে সোমবার কারখানার মূল গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান আহত কর্মী, তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক দীর্ঘ বৈঠকের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সালানপুরে বেসরকারি কারখানায় কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি মোটরের ভ্যাকুম ক্লিনারে হাত ঢুকে যায় স্থানীয় ঠিকা কর্মী গণেশ হাঁসদার।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর ডান হাতের দুটি আঙুল গুরুতরভাবে জখম হয়। ঘটনার পরেই তাঁকে উদ্ধার করে বরাকরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা চলার পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই সোমবার পরিবার ও গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে কারখানার গেটে বিক্ষোভে শামিল হন ঐ কর্মী। ঐ কর্মী ও তার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান স্থানীয় নেতা অমর মাহাতো ও তীর্থ সেন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে এলাকায় আসে সালানপুর থানার পুলিশ।

বিক্ষোভের কারণে পুলিশের উপস্থিতিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে গ্রামবাসীদের একটি জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেশ কিছু নজিরবিহীন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে গেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের সমস্ত সুরক্ষার সরঞ্জাম বা সেফটি গিয়ার দেওয়া হলেও অনেকেই তা ব্যবহার করেন না। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবার থেকে কোনো শ্রমিক সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার না করলে তাঁর ছবি তুলে রাখা হবে এবং ৫ দিনের মজুরি কেটে নেওয়া হবে।

কেটে নেওয়া মজুরির টাকা অন্য কোথাও না পাঠিয়ে, তা দিয়ে শ্রমিকদের জন্যই একটি বিশেষ ‘কল্যাণ ফান্ড’ তৈরি করে সেখানে জমা রাখা হবে। কারখানার ভেতরেই দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত শ্রমিকের জন্য পিএফ এবং ইএসআই সুবিধা চালু করা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার এবং কারখানায় উপযুক্ত শৌচালয় তৈরির দাবিও জানানো হয়েছে। এই বৈঠক চলাকালীন একটি নজিরবিহীন ও বিচিত্র ছবি ধরা পড়ে।

বৈঠক চলাকালীন বিজেপি নেতা কৃষ্ণা বাউরি সেখানে উপস্থিত হলে আচমকাই বৈঠক ছেড়ে উঠে যান গ্রামবাসী ও আহত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সাফ বক্তব্য, আমাদের এই লড়াইয়ে কোন রাজনৈতিক নেতা যেন মাথা না গলান। এই ঘটনায় কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা ছড়ায়।আহত কর্মী গণেশ হাঁসদা বলেন, সেদিন কাজ করতে করতে হঠাৎ আমার হাত ভ্যাকুম ক্লিনারে চলে যায়। তাতে আঙুলের উপরের অংশ কেটে যায়। আমি আমার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া যতদিন আমি সুস্থ না হচ্ছি, ততদিন যেন আমাকে মজুরি দেওয়া হয় এবং সুস্থ হওয়ার পর আমাকে ভালো কাজে নিযুক্ত করা হোক।

আন্দোলনকারী নেতা অমর মাহাতো বলেন আমরা শ্রমিকের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, সঠিক মজুরি, পিএফ-ইএসআই এবং শৌচালয়ের দাবি সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এসেছিলাম। কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবিগুলি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে আহত শ্রমিকের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বাড়িতে গিয়ে কথা বলবে। যদি সঠিক ক্ষতিপূরণ না মেলে, তবে আমরা লেবার কমিশনের দ্বারস্থ হব।এই বিষয়ে কারখানার হেড জেপি সিং বলেন,কারখানাটি একটি পরিবারের মতো।

আমরা সবসময়ই কর্মীদের পাশে আছি। তবে সুরক্ষা অনেকাংশেই শ্রমিকদের নিজেদের হাতে। তাই সুরক্ষার সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের ৫ দিনের মজুরি কেটে শ্রমিকদের ফান্ডেই জমা রাখা হবে।কারখানা সূত্রে খবর, আহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই তাঁর পরিবারের সঙ্গে সরাসরি বাড়িতে গিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত মীমাংসা করা হবে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *