নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের মামলা , দোষী সাব্যস্ত যুবকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ আসানসোল পকসো কোর্টের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর নাবালিকাকে প্রথমে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও পরে অস্বীকার করার মামলায় দোষী সাব্যস্ত যুবকের সাজা ঘোষণা করলো আসানসোল জেলা আদালতের পকসো কোর্ট। মঙ্গলবার পকসো কোর্টের বিচারক সুপর্ণা বন্দোপাধ্যায় আসানসোলের জামুড়িয়ার বাসিন্দা দোষী সাব্যস্ত শিবম বাউরীকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সাজাপ্রাপ্তকে দশ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও নির্যাতিতাকে ভিক্টিম ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি পূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিচারক দিয়েছেন। এই মামলার সরকারি আইনজীবী বা পিপি হিসেবে ছিলেন তাপস উকিল।














মোট ১০ জন এই মামলায় তাদের সাক্ষ্য দান করেন। দোষী সাব্যস্ত যুবকের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৪ নং ধারায় মামলা করেছিলো জামুড়িয়া থানার পুলিশ। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত যুবকের কাকা, কাকিমা ও কাকার ছেলে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে ছিলেন। তাদের পুলিশ ঐ যুবকের সঙ্গে গ্রেফতার করেছিলো। পরে তারা জামিন পান। কিন্তু শিবম বাউরি জামিন পায়নি। তার কাস্টডি ট্রায়াল হয়েছে। তবে প্রমাণের অভাবে যুবকের কাকা, কাকিমা ও কাকার ছেলে আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। আদালত ও সরকারি আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জামুড়িয়া থানার কেন্দা পুলিশ ফাঁড়িতে ১৬ বছরের এক নাবালিকার মা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
তার অভিযোগ ছিলো যে, ১৬ বছরের নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহবাস করেছে এলাকার বাসিন্দা বছর পঁচিশের শিবম বাউরি। এর ফলে মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তিনি সেটা ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি জানতে পারেন। ২০২১ সালের ২৭ মার্চ মেয়ে সন্তান প্রসব করে। নাবালিকার মা এরপর বিয়ের জন্য যুবকের পরিবারের সদস্যদের হিসেবে তার কাকা ও কাকিমাকে বলেন। এরপরে ঐ যুবক নাবালিকাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু সাতদিনের মধ্যে যুবকের পরিবার ঐ নাবালিকার উপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাবামায়ের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেন।এরপরে কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ঐ যুবক সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে।
তদন্তে নেমে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করে পুলিশ।এদিন এই মামলার সরকারি আইনজীবী বা পিপি তাপস উকিল বলেন, মামলা চলাকালীন পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে নাবালিকা, তার সন্তান ও শিবম বাউরির রক্তের নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করার অনুমতি দেয় পকসো কোর্ট। তাতে প্রমাণিত হয় যে, শিবম বাউরি সন্তানের বাবা ও নাবালিকা মা। শেষ পর্যন্ত, ১০ জনের সাক্ষ্য দান ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পকসো কোর্টের বিচারক সুপর্ণা বন্দোপাধ্যায় সোমবার শিবম বাউরিকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। প্রায় পাঁচ বছর পরে দোষী সাব্যস্ত যুবকের সাজা হওয়ায় খুশি নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার ও পরিজনেরা।


