রূপনারায়ণপুরে চোরের তাণ্ডব! বন্ধ বাড়ির পাশাপাশি মন্দিরেও দুঃসাহসিক চুরি , এলাকায় আতঙ্ক
*বেঙ্গল মিরর, রুপনারায়নপুর , রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এলাকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে চোরের উপদ্রব। তার থেকে এবার রেহাই পাচ্ছে না ঈশ্বরের মন্দিরও! বন্ধ বাড়ির সুযোগ নিয়ে তালা ভেঙে চুরির পাশাপাশি এবার মন্দিরের দানপাত্র ভেঙে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত হঠাৎ কলোনিতে। রবিবার এক রাতে পর পর এই চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুপনারায়নপুরের হঠাৎ কলোনির বাসিন্দা রঞ্জিত প্রসাদের স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ।














চিকিৎসার কারণে বর্তমানে তাঁরা সস্ত্রীক দিল্লিতে রয়েছেন। বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগকেই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা। রবিবার রাতে ঐ বাড়ির সদর দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরের দল। ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ওলটপালট করে এবং আলমারি ভেঙে সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে চম্পট দেয় তারা।শুধুমাত্র বাড়িই নয়, রবিবার রাতে চোরদের হাত থেকে ছাড় পায়নি স্থানীয় বজরংবলী,শিব ও কালী মন্দিরটি। রঞ্জিত বাবুর বাড়ির ঠিক পাশেই রয়েছে এই মন্দির। জানা গেছে, কালি মন্দির ও বজরংবলী মন্দিরে দানপেটি ছিল। যা বছরে মাত্র একবার খোলা হতো।
চোরেরা সেই দানপেটি ভেঙে তার ভেতরে থাকা সমস্ত টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।রঞ্জিতবাবুর শ্বশুরবাড়ি ঢিল ছোড়া দূরত্বেই। তাঁর স্ত্রীর ভাই রিঙ্কু সাউ বলেন, রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা জেগেই ছিলাম। তখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু এদিন সকালে মা উঠে দেখেন দিদির বাড়ির সামনের দরজা খোলা। সন্দেহ হওয়ায় তড়িঘড়ি গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে পড়ে রয়েছে এবং আলমারিটি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দিদি জামাইবাবু বাড়িতে না থাকায় ঠিক কি কি জিনিস চুরি গেছে তা স্পষ্ট নয়।
তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভাগ্নির একটি রুপোর তোড়া, কিছু রুপোর গয়না এবং দিদির একটি সোনার নাকের দুল চুরি গেছে। তবে তিনি আর একটা বড় তথ্য দেন । বলেন, চোরেরা চুরির পর বা আগে বাড়ির বাইরে ক্রস চিহ্ন একে দিয়ে গেছে।রিঙ্কু বাবু আক্ষেপের সুরে বলেন, আজ পর্যন্ত তাঁদের পাড়ায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। চোরদের হাত থেকে যে মন্দিরের দানপেটিও রেহাই পাচ্ছে না, তা ভেবেই অবাক হচ্ছেন তাঁরা।জানা গেছে, রঞ্জিত বাবুর বাড়ি ও মন্দির ছাড়াও চোরেরা ওই রাতেই পাশের আরও একটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সেই বাড়ির দরজায় আধুনিক ‘ইন্টার লক’ সিস্টেম থাকায় চোরের দল শত চেষ্টা করেও ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
ফলে বড়সড় লোকসানের হাত থেকে বেঁচে যায় ওই পরিবারটি।পরপর এই চুরির ঘটনায় রূপনারায়ণপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত এই চুরির জেরে কার্যত অতিষ্ঠ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো দাবি, এলাকায় রাতের পুলিশের টহলদারি আরও বাড়ানো হোক।পুলিশ জানায়, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। চোরদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।


