ASANSOL

আসানসোল পুরনিগমে ‘মুখোমুখি’ জনসংযোগে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ফোনে শুনলেন নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোল পুর এলাকার নাগরিক পরিষেবাকে আর স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে বৃহস্পতিবার ‘মুখোমুখি’ নামে নতুন এক জনসংযোগ কর্মসূচির সূচনা হলো আসানসোল পুরনিগমে। এদিন সকাল দশটার আসানসোল পুরনিগমের কমিশনারের চেম্বারে এই জনসংযোগ কর্মসূচির সূচনা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকরা পুর পরিষেবা সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ বা সমস্যার কথা ফোনে সরাসরি মন্ত্রীকে সরাসরি জানান। এক ঘন্টা মন্ত্রী ফোনে নাগরিকদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের অভিযোগ, সমস্যা ও অসুবিধার কথা শোনেন।

তাদের ফোন নম্বর লিখে নিয়ে মন্ত্রী তাদের অভিযোগ, সমস্যাও অসুবিধা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। মন্ত্রীর সঙ্গে এই ‘ মুখোমুখি ” পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম, আসানসোল পুরনিগমের প্রশাসক অদিতি চৌধুরী সহ পুর আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে আলোচনা হলে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আসানসোল পুরনিগমের পক্ষ থেকে এই ” মুখোমুখি ” কর্মসূচিতে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

ঐ নম্বরে ফোন করলে আমি নিজেই ফোন রিসিভ করে নাগরিকদের কথা শুনেছি। প্রয়োজনে প্রশাসক, কমিশনার, পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করার কথা বলেছি।তিনি বলেন, প্রথম দিনের ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচিতে মোট ৩৭টি অভিযোগ ও প্রশ্ন গ্রহণ করা হয়েছে।

সেগুলির সমাধানের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুলতঃ পানীয়জলের সমস্যার কথা পুরবাসীরা জানিয়েছে। এছাড়াও জল জমে যাওয়া, অবৈধ নির্মাণ, কমিউনিটি হল দখল হয়ে যাওয়ার কথা সমস্যার কথা বলেছেন। বিশেষ করে কুলটি এলাকার পানীয়জলের সমস্যা এখানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার আমরুত প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা দিয়েছে, কিন্তু কোন কাজই হয়নি। কাজ হলেও, তা খুবই নিম্নমানের হয়েছে। পুর আধিকারিকদের গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন এছাড়াও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে একটি কেন্দ্রীয় গ্রিভ্যান্স সেল চালু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও শহরাঞ্চলের বাসিন্দা সেখানে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পুরসভায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হবে সেই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তা ড্যাশবোর্ডে সক্রিয় থাকবে। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপের মাধ্যমে যেমন ময়লা, জল জমা বা অন্যান্য নাগরিক সমস্যার ছবি পাঠিয়ে অভিযোগ জানানো যায়। তার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ হয় না।

তেমনই নতুন গ্রিভ্যান্স ব্যবস্থাতেও প্রতিটি অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। আমাদের উদ্দেশ্য পুর পরিসেবা আরো ভালো করে মানুষের কাছে পৌঁছানো ও তার পাশাপাশি স্বচ্ছতা রাখা। মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ ও নেতৃত্বে “মানুষের জন্য, মানুষের দ্বারা, মানুষের সরকার” গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসানসোল পুরনিগম বছরে ৩৬৫ দিন ২৪ ঘন্টা নাগরিকদের পাশে থেকে পরিষেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *