অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ লাউদোহায় প্রধানকে ঘিরে ডিম বৃষ্টি ও বিক্ষোভ, উত্তেজনা
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* সরকারি প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় এবার সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে লক্ষ্য করে ডিম বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের গোগলা গ্রাম পঞ্চায়েতে। এদিন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠে যে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা একটা সময় প্রধানকে উদ্দেশ্য করে ডিম ছুঁড়তে শুরু করেন।














খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে লাউডোহা থানার পুলিশ।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের গোগলা গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেকদিন আগে ফর্ম ফিলাপ করা সত্ত্বেও গরীব পরিবারের মা-বোনেরা অন্নপূর্ণা যোজনার কোনো টাকা পাচ্ছেন না। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, পঞ্চায়েত প্রধান আসল আবেদনকারীদের ফর্ম জমা না দিয়ে পঞ্চায়েতেই আটকে রেখে দিয়েছেন।শুধু তাই নয়, তাদের আরও অভিযোগ, এখানে দল দেখে, মুখ চিনে কাজ করা হচ্ছে।

এলাকার বিত্তবান বা দোতলা বাড়ির মালিকরা টাকা পেলেও, প্রকৃত যারা পাওয়ার যোগ্য, সেই গরীব মানুষরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।বিক্ষোভকারী এক মহিলা বলেন, আমরা এখানে বিক্ষোভ করছি। এর কারণ হলো আমাদের সাধারণ গরীব ঘরের মা-বোনেরা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সেই ফর্মগুলো জমা না দিয়ে পঞ্চায়েতেই রেখে দিয়েছেন। এখানে মুখ চিনে চিনে কাজ করা হচ্ছে।
যারা ধনী, যাদের দোতলা বাড়ি আছে তারা টাকা পেয়ে যাচ্ছে, আর আসল প্রাপকরা একটা পয়সাও পায়নি। এই ৩০০০ টাকা সরকার দিচ্ছে, প্রধান নিজের পকেট থেকে তা দিচ্ছেন না। যদি আগামী দিনে টাকা না পাওয়া যায়, তবে এর থেকেও বৃহত্তর আন্দোলন হবে। স্থানীয় এক মহিলা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তো বলেছিলেন প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। তাহলে আজ কেন সরকারি স্কুল, বেসরকারি স্কুল, আইসিডিএসে চাকরি করা মহিলারা টাকা পাচ্ছে আর গরীব মহিলারা বাদ যাচ্ছে? আমাদের দাবি, যতজন ফর্ম জমা দিয়েছে, প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে হবে।
পঞ্চায়েত অফিস আমাদের ফর্মগুলো কেন দেখাচ্ছে না, বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিক্ষোভের পারদ চড়তেই প্রধানের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে প্রধানকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার মাধ্যমে। বিক্ষোভকারী নেতাদের মতে, মানুষের মনের পুঞ্জীভূত আক্রোশের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লাউডোহা থানার পুলিশ বাহিনী। তারা গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রধান ও পঞ্চায়েত অফিস থেকে বলা হয়েছে সরকারের নির্দেশ মতো যা করার করা হচ্ছে।


