আসানসোলে বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ পুরনিগমের একাংশ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল শহরের জিটি রোডের বাজার এলাকার পার্কিং জোনে শুক্রবার বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় আসানসোল পুরনিগমের পক্ষ থেকে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। এই উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে প্রবল অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি ও গন্ডগোল হয়। দোকানদারদের অভিযোগ ছিল যে তাদের যথাযথ সময় না দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা ক্ষোভ দেখান। শেষ পর্যন্ত দুপুরের দিকে আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়। ততক্ষণে জিটি রোডের রাহা লেন মোড় থেকে ইস্টার্ন রেলওয়ে বয়েজ হাইস্কুলের সামনে পর্যন্ত একাধিক দোকান ভেঙে দেওয়া হয়।














শনিবার সকালে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আসানসোল বাজার এলাকায় আসেন। তাকে দোকানদারের শুক্রবার বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চালানো নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন। তারা বলেন, সময় না দিয়ে, প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে যেভাবে অভিযান চালানো হয়েছে, তাতে আমাদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বলতে গেলে, এদিন বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে দোকানদারেরা আসানসোল পুরনিগমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। বিজেপি বিধায়ক তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, নোটিশ দেওয়ার পরেও, যারা এই কাজ করেছে, তাদেরকে খুঁজে বার করা হবে।
তারপর যা করার তা করা হবে। এরপর কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিষ্কার ভাষায় বলেন, শুক্রবার যেভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, তা রাজ্য সরকার এবং বিধায়ক হিসেবে আমি নিজে সেটিকে সমর্থন করেন না। তিনি রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসানসোল পুরনিগমের কিছু আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ার তৃণমূলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে শহরে অশান্তির সৃষ্টির জন্য এই কাজ করেছে। তারা এখনো তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়া থেকে নিজেদেরকে বার করতে পারেননি।
তিনি এদিন হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, বিধায়ক হিসেবে আমি সেই সমস্ত আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের খুঁজে বার করে বিরুদ্ধে এফআইআর করবো। তিনি পরিষ্কার বলেন, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কখনোই এইভাবে উচ্ছেদ করতে বলতে পারেন না। আসানসোল পুরনিগমের কিছু আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ার রাজ্য সরকারকে বদনাম করার জন্য এই কান্ড ঘটিয়েছে। তাদেরকে কোনভাবেই ছাড়া হবে না। প্রসঙ্গতঃ, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল পুরনিগমে ” মুখোমুখি ” নামে একটি সরকারি প্রকল্পের সূচনা করেন।
তাতে তিনি ফোনের মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপরে দুপুরের দিকে তিনি আসানসোল পুরনিগম মোড় থেকে হটন রোড মোড় পর্যন্ত পার্কিং জোন পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পার্কিং জোনে বেআইনি দখলদার দেখে ক্ষুব্ধ হন। সঙ্গে থাকা পুলিশ অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোল পুরনিগমের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের সাক্ষরিত একটি নোটিশ দেওয়া হয়।
তাতে বলা হয়েছিলো, রাহা লেন মোড় থেকে হটন রোড মোড় পর্যন্ত পার্কিং জোন ও ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী দোকান ১৫ দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। তা করা না হলে, ২৪ জুলাইয়ের পরে বেআইনি দখলদার হিসেবে উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু তারপরে শুক্রবার সকাল এগারোটা থেকে আচমকা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। যা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে বিতর্ক।


