মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত হচ্ছে আসানসোল ইএসআই হাসপাতাল চাকরি অনিশ্চয়তায় ক্ষোভে ফুঁসছেন চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ও কর্মীরা
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল ইএসআই হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও চাকরি অনিশ্চয়তার অভিযোগ তুলে সোমবার আন্দোলনে নামলেন হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক, নার্স ও গ্রুপ-ডি কর্মীরা। সোমবার তারা হাসপাতালের মেন গেটের সামনে একজোট হন ও বিক্ষোভ দেখান।তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিষেবা দেওয়ার পর হঠাৎ মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে আমাদেরকে আর রাখা হবে না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে।














চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ডাঃ শর্মিষ্ঠা সরকার বলেন, আমি ও আমার সহকর্মীরা গত ১৫ বছর ধরে হাসপাতালের পরিষেবা দিয়ে আসছি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের অনেক স্থায়ী চিকিৎসক ডিউটির সময় বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বার করলেও চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকেরাই ২৪ ঘণ্টা পরিষেবার বড় অংশ সামলেছেন। অথচ এখন কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তাঁদের ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি হাসপাতালের ক্যান্টিন, রোগী রেফার, কোভিড ভ্যাকসিন-সংক্রান্ত অনিয়ম সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার আবেদন করেন।অন্যদিকে, চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ডাঃ অভিজিৎ মালাকার বলেন, হাসপাতাল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে গেলে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে এতদিন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই অবস্থান বদলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৪৬ জন চুক্তিভিত্তিক ও পার্ট-টাইম চিকিৎসক এবং শতাধিক কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের প্রশাসনিক নিয়োগ, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস এবং অন্যান্য অনিয়ম নিয়েও তদন্তের দাবি জানান তিনি।চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী রুপেশ দুবে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমানে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানোই কঠিন।
তার ওপর যদি অন্য জেলায় বদলি করা হয়, তাহলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি দাবি করেন, মেডিক্যাল কলেজ হওয়ার আগে কর্মীদের এখানেই রাখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন কাজ করেও প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট ও বেতন বৃদ্ধি না পাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ও কর্মীদের একটাই দাবি, মেডিক্যাল কলেজ গঠনের নামে দীর্ঘদিনের কর্মীদের চাকরি কেড়ে নেওয়া যাবে না।
তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে হবে, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপে স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে।তবে, চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ও কর্মীদের নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি আসানসোল ইএসআই হাসপাতালের সুপার ডাঃ পিএস দত্ত।


