বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন এবং আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বৃক্ষরোপণের যৌথ প্রয়াস

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, ৬ ই জুন, ২০২০, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত: 
 গতকাল ৫ ই জুন ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস।
এই উপলক্ষে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট  সদর দপ্তর এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন কার্যালয়ের মাঠে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন যৌথভাবে  পুলিশ কমিশনার সুকেশ কুমার জৈন এবং জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি।

riju advt

এই দুটি অনুষ্ঠানে নিজ নিজ স্থানে উপস্থিত ছিলেন এ ডি এম প্রশান্ত মন্ডল ( এম ভি), এ ডি এম (ডেভলপমেন্ট) অভিজিৎ তুকারাম সভালে, এ ডি এম ( জেনারেল) শুভেন্দু বসু, এ ডি এম ( জেলা পরিষদ) কস্তুরী বিশ্বাস , শুভজিৎ বসু( প্রজেক্ট অফিসার, ডি ডব্লিউ ও), এস ডি এম দেবজিত গাঙ্গুলি, জেলা তথ্য সম্প্রচার আধিকারিক আজিজুর রহমান , স্পেশাল অফিসার শঙ্খ সাঁতরা, বাদশা ঘোষাল, এন ডি সি শঙ্কু বিশ্বাস, নকুল চন্দ্র মাহাতো প্রভৃতি এবং পুলিশের তরফ থেকে ডি সি সেন্ট্রাল সায়ক দাস, ডি সি হেড কোয়ার্টার অংশুমান সাহা, ডি সি ট্রাফিক শ্রীমতি পুষ্পা, ডি সি ইস্ট অভিষেক গুপ্তা, এ সি পি সেন্ট্রাল সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য, এ সি পি হেড কোয়ার্টার শ্রীমতি আশালতা গোস্বামী প্রভৃতি এবং আরও সমস্ত উচ্চপদস্থ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা।

   
ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সারা দেশের মানুষ সন্ত্রস্ত। আর পশ্চিমবঙ্গে আমফাণ ঘূর্ণিঝড়ের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ বেশ কিছু জেলা বিধ্বস্ত। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে প্রচুর গাছ নষ্ট হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সুন্দরবন তো বটেই সারা রাজ্যে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ দিয়েছেন।

 এই বিষয়ে পুলিশ কমিশনার সুকেশ জৈন বলেন, ” আমরা জেলা ও পুলিশ প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে সারা বছরে ৩ লক্ষ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছি। আজ একই সঙ্গে সমস্ত জেলার পুলিশের এবং জেলা প্রশাসনের দপ্তরগুলিতে এবং এ সি পি থেকে সমস্ত আধিকারিকরা একই সঙ্গে গাছ লাগাচ্ছি। প্রায় ৫ হাজার গাছ আজকের দিনে লাগানো হচ্ছে। গাছ লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে তার দেখভাল আমরা করব।”

  এদিকে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি বলেন, ” গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করতে বৃক্ষরোপণ ভীষণ প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী সুন্দরবনে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এর পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেরকম ভাবেই পুলিশ ও জেলা প্রশাসন আজ ৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করে করা হল ।

পরবর্তীকালে ডি এম অফিস চত্বরে আরো গাছ লাগানো হবে। ইতিমধ্যে  স্কুলের শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীরা বৃক্ষরোপণ করছেন এবং লক ডাউন পরবর্তী সময়ে এই কর্মযজ্ঞে যাতে এগিয়ে আসেন তার উদ্যোগ নিতে সাহায্য করা হবে। বিডিও দের ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যাতে গ্রামের মানুষদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতে সদর্থক ভূমিকা নেন।

এরই সঙ্গে গাছ গুলির সুরক্ষা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জেলাশাসক বলেন, “গাছ গুলি যাতে সুরক্ষিত থাকে সেকারণে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হচ্ছে এবং নিয়মিত জল দেওয়া হবে এবং চারাগাছ গুলোর দেখভাল করা হবে।’

  করোনা আবহে জেলায় প্রশাসন ও পুলিশের উদ্যেগে এই বৃক্ষরোপণ অবশ্যই পরিবেশ দূষণ রোধে করতে নতুন দিশা দেখাবে এটা বলাই বাহুল্য।