অবৈধ কয়লা খনিতে ধস এফআইআর করলো ইসিএল, তদন্ত করে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস পুলিশের
এলাকায় প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল, ক্ষতি পূরণ ও চাকরি দেওয়ার দাবি
বেঙ্গল মিরর, রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ২ ফেব্রুয়ারিঃ ইসিএলের খনি এলাকায় অবৈধভাবে কয়লা কাটতে গিয়ে মঙ্গলবার ধসের ঘটনা ঘটেছিলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকার্য চালিয়ে কয়লার চাঁই সরিয়ে ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ইসিএলের মাইনস্ রেসকিউ দল। খবর পেয়ে এলাকায় গেছিলো নিরসা পুলিশ। বুধবার অবশ্য ঘটনাস্থলে দেখা গেলো না ইসিএলের মাইনস রেসকিউ টিমকে। উদ্ধারকারী দলের তরফে বলা হয়েছে, আর চাপা পড়ে কেউ নেই। তাই উদ্ধার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।














ইসিএলের সদর দপ্তর সূত্রে বুধবার জানা গেছে, মগমা এরিয়ার গোপীনাথপুর ওসিপির এই ঘটনা নিয়ে নিরসা থানায় সংস্থার তরফে এফআইআর করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কারোর নাম এফআইআরে দেওয়া হয়নি। এদিকে এদিন সকালে নিরসা থানার পুলিশ আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শনে যান। পরে এক আধিকারিক বলেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবার নির্দিষ্ট ভাবে নাম দিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করুক। পুলিশ তদন্ত করে কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইন মতো ব্যবস্থা নেবে। পরিবারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
ইসিএলের এই খনিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরী, এক যুবক ও তিন মহিলার। তাদের সনাক্তও করা হয়েছে। তারা হলেন কুন্তি দেবী , তার ১৬ বছরের মেয়ে পায়েল কুমারী, জুবেদা খাতুন, জুলেখা বিবি ও মনোজ বাউরি । খনির সুড়ঙ্গে আরও মৃতদেহ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু কোন পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ পুলিশের কাছে দায়ের করা হয় নি।
এদিন ঝাড়খণ্ড রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল এলাকায় আসে। নেতৃত্বে ছিলেন শামসের আনসারি ও সাকিল আখতার আনসারি। তারা দাবি করেন, মৃত ৫ জনের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতি পূরণ ও একজনকে চাকরি ইসিএলের তরফে দিতে হবে। তারা আরো বলেন, অবিলম্বে কয়লা মাফিয়াদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করা হোক। তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করুক পুলিশ।
ঝাড়খণ্ডে ইসিএলের মগমা এরিয়ার নিরসার গোপীনাথপুর ওসিপি বা খোলামুখ খনিতে রেট হোল ( এক ধরনের গর্ত, যা দেখতে অনেকটা সুড়ঙ্গের মতো) করে কয়লা চুরি করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে কয়লা কাটার সময় সেখানে ধস নামে। পরে ধস কবলিত সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ জনের মৃতদেহ। খনির সুড়ঙ্গের মধ্যে আরও ১০ থেকে ১২ জনের মতো চাপা পড়ে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা। মঙ্গলবার ভোরবেলা এই খনিতে কয়লা কাটার জন্য গোপীনাথপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন নেমেছিলেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কয়লা মাফিয়ারা সামান্য অর্থের বিনিময়ে গ্রামের গরীব মানুষদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কয়লা কাটতে নামায় খনিগুলিতে। এলাকার প্রাক্তন সিপিআই বিধায়ক অরূপ চট্টোপাধ্যায় ও বর্তমান বিধায়ক অপর্ণা সেনগুপ্তর অভিযোগও সেইরকমই।
জানা গেছে, এক বস্তা কয়লা তোলার জন্য গ্রামবাসীদের দেওয়া হয় ৮০ থেকে ১৩০ টাকা। এইভাবে কয়লা চুরি করিয়ে এক টন কয়লা বেচে মাফিয়ারা লাভ করে প্রায় দশ হাজার টাকার কাছাকাছি।
এর আগে পান্ডবশ্বরের মাধাইপুর, গাংটিকুলি, বারাবনির লালগঞ্জে এইভাবেই মাটির তলায় কয়লা কাটতে গিয়ে ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে অনেকেরই। ঘটনার পরে দিন কয়েক কয়লা চুরি বন্ধ থাকে। তারপর আবার একই জিনিস শুরু হয়। সেসব ঘটনার কোনও তদন্ত হয়নি। গোপীনাথপুরের ঘটনাও সেই ভাবেই হয়ত চাপা পড়ে যাবে বলে অনেকেরই অনুমান ।
প্রসঙ্গতঃ, মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের নিরসা থানার আরো দুটি জায়গায় অবৈধ ভাবে কয়লা চুরি করতে গিয়ে ধসে চাপা পড়ে মোট ৬ জন। তবে, নিরসা থানার পুলিশ এই দুটি ঘটনা নিয়ে কিছু বলেনি।

