রানিগঞ্জে ট্রেলারে ধাক্কা, ডাম্পার চালকের মৃত্যু, দেহ নিয়ে বার্ণপুরে ইস্কো কারখানা গেটে বিক্ষোভ

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ ট্রেলারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারায় মৃত্যু হলো ডাম্পার চালকের। আর এই ঘটনার পরে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মৃতদেহ নিয়ে আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্ণপুরে নিউটাউন লাগোয়া ইস্কো কারখানা বা আইএসপি সানমারা গেটে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতর পরিবারের সদস্য ও অন্য গাড়ি চালকেরা। বুধবার সকালের এই ঘটনায় ইস্কো কারখানা গেট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরফলে ইস্কো বাইপাস রোডের কারখানা গেট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে হিরাপুর থানার পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

riju advt


হিরাপুর থানার বার্ণপুরের রাধানগর রোডের খাটালের বাসিন্দা মৃত ডাম্পার চালকের নাম সুনীল যাদব (২৩)। মঙ্গলবার রাত দেড়টা নাগাদ আসানসোলের রানিগঞ্জ থানার রানিসায়ের মোড়ে ২ নং জাতীয় সড়কে দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। সুনীল যাদব বার্ণপুরের ইস্কো কারখানায় বেসরকারি ট্রান্সপোর্টিং কোম্পানির হয়ে ডাম্পার চালানোর কাজ করতো।


মঙ্গলবার রাতে সুনীল যাদব ছাই ভর্তি ডাম্পার নিয়ে ইস্কো কারখানা নিয়ে দূর্গাপুরে যাচ্ছিলো। রাত দেড়টা নাগাদ রানিগঞ্জ থানার রানিসায়ের মোড়ে ২ নং জাতীয় সড়কে চুন ভর্তি একটি ট্রেলার পেছন বা ব্যাক করে রাস্তার পাশে কারখানায় ঢুকছিলো। সেই সময় দ্রুত গতিতে আসা ছাই বোঝাই ডাম্পারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ট্রেলারে ধাক্কা মারে। দুটি গাড়ির সংঘর্ষের জোর এতটাই ছিলো যে, ছাই বোঝাই ডাম্পারটি উল্টে যায়। চালক সুনীল যাদব কেবিন থেকে বেরোতে না পারায়, সে তলায় চাপা পড়ে। খবর পেয়ে রানিগঞ্জ থানার পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বেশ কিছুক্ষুনের চেষ্টায় পুলিশ কেবিনের ভেতর থেকে জখম অবস্থায় চালককে উদ্ধার করে। পরে তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।


বুধবার সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চালকের মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়। এরপর সেই মৃতদেহ চালকের পরিবারের সদস্য, আত্মীয় পরিজন ও সহকর্মী অন্য গাড়ি চালকেরা নিয়ে আসেন বার্ণপুরে নিউটাউন লাগোয়া ইস্কো কারখানা সানমারা গেটের সামনে। সেখানে গাড়িতে মৃতদেহ রেখে তারা ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। এই বিক্ষোভের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মুন্না যাদব সহ অন্য বিক্ষোভকারীদের দাবি, সুনীল যাদবের বাড়িতে বাবা-মা আছে। তাদের এখন কি হবে? ট্রান্সপোর্টার ক্ষতি পূরণ হিসাবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিচ্ছে। এতে ঐ পরিবারের কি হবে? আমরা চাই এমন ক্ষতি পূরণ দেওয়া হোক যাতে পরিবার চলে।

তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, ওভালোড থাকার কারণে ঠিক সময়ে ডাম্পারের ব্রেক ধরেনি। তাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রেলারে ধাক্কা মারায় এই ঘটনা। আমরা ওভারলোড গাড়ি চালাতে চাইনা। কিন্তু গাড়ির মালিক ও ট্রান্সপোর্টার জোর করে চালাতে বাধ্য করেন। এই ঘটনার পরে আমরা আর ওভারলোড গাড়ি চালাবো না।
ঘন্টা খানেকের বেশি সময় ধরে এই বিক্ষোভ চলার পরে হিরাপুর থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে ট্রান্সপোর্টার গাড়ির মালিক বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে আশ্বাস দেন। এরপরেই বিক্ষোভ উঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *