রানীগঞ্জ ব্লকে ৮৭ টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্র
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : রাত পোহালেই শুরু পঞ্চায়েত নির্বাচন আর তার আগেই ব্যাপক তোর জোর পশ্চিমবঙ্গের সব কটি অংশের সাথেই খনি অঞ্চল শিল্পাঞ্চল রানীগঞ্জে।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক নজরদারির সাথে, চলছে আধা সামরিক বাহিনীর টহলদারি। যদিও এদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত খনি অঞ্চলে সাময়িক আধা সামরিক বাহিনী যা মোতায়েন ছিল তা রয়ে গেলেও নতুন করে কোন সামরিক বাহিনী লক্ষ্য করা যায়নি যা নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক।














বৃহস্পতিবার ৮ ই জুন এক সময় হঠাৎ করেই ভোটের দিন ঘোষণা শুরু হওয়ার পরে পঞ্চায়েত নির্বাচন করাতে তৎপর হয় প্রশাসন। আর এরপর, দুদিন ধরে কোনরূপ কোন প্রার্থীদের নমিনেশন দাখিল না হলে সোমবার থেকে শুরু হয়ে যায় প্রার্থীদের নমিনেশন ফাইল প্রক্রিয়া। যেখানে শাসক দল সব থেকে শেষে প্রার্থী তালিকা দিলেও প্রথমেই প্রার্থী তালিকা দেয় বাম দল, এরপরই বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা দেয়। যেখানে নাম নথিভুক্তি নিয়ে নানা জল ঘোলা হলেও পরবর্তীতে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তা নিয়েই এখন, সকল বিরোধীদল গুলি শাসক দলকে নিশানা করে সরব হয়েছে।
জানা গেছে রানীগঞ্জ ব্লকের ছটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৮৫টি নির্বাচনক্ষেত্র রয়েছে, তবে এখানে আসন সংখ্যা হচ্ছে ৯৩ টি। পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট আসন সংখ্যা ১৬ টি। জেলা পরিষদে রানীগঞ্জ ব্লকের দুটি আসন রয়েছে। এবার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র যেমন ৮৫টি হচ্ছে তার সাথে সহায়ক ভোট গ্রহণ কেন্দ্র হচ্ছে দুটি মোট মিলিয়ে ৮৭ টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্র থাকছে, রানীগঞ্জ ব্লক এলাকার জন্য। যেখানে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা এবার ৪২ হাজার ২৩০ জন, সেখানেই মহিলা ভোটারের সংখ্যা রয়েছে ৪০ হাজার ৬২ জন। যার সামগ্রিক ভোটার হয়ে দাঁড়ায় ৮২ হাজার ২৯২ জন।
জানা গেছে এবারের ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে, প্রতিটি বুথে ৫ জন করে বুথ কর্মী থাকবে। আর যেখানে সাড়ে বারোশোর বেশি ভোটার রয়েছে সেখানে থাকবে ৬ জন বুথ কর্মী, রানীগঞ্জ ব্লকে এরকম ১১ টি বুথ রয়েছে বলে জানা গেছে। এবারের ভোটে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বারংবার সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সাদা সামরিক বাহিনী চেয়ে ভোট করানোর দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। যেখানে বিচারক এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার জন্য আবেদন করতে বলেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশন কে। তবে এ সকলের মাঝেও এখনো অন্য সব এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী সচ্ছলভাবে নিয়োগ হয়নি বলেই দাবি তুলেছে বিরোধীরা।
তবে জানা গেছে রাতের মধ্যেই প্রতিটি বুথে একজন করে আধা সামরিক বাহিনী দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা নিয়োগের সাথেই ৫০ শতাংশ রাজ্য পুলিশ ও নিয়োগ করা থাকবে বলেই জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। একই সাথেই অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য প্রতিটি বুথে থাকছে ক্যামেরা। যা নির্বাচন প্রক্রিয়া চলার সম্পূর্ণ সময় চলতে থাকবে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রগুলিতে। একই সাথে এই প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ২০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত এরিয়াতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। যেখানে একযোগে একাধিক মানুষ যাতায়াত করতে পারবেনা বলেই জানা যায়। তবে এ সকলের সাথেই সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই এবার দাবি করেছে তারা সেন্ট্রাল ফোর্সের ভরসায় থাকবে না। ভোটে যাতে ছাপ্পা ও রেগিং না হয় , তার জন্য তারা প্রতিটি বুথে বুথে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুলেছেন বলেই দাবি করেন। জানা গেছে রানীগঞ্জের বেশ কয়েকটি বুথকেই অতি উত্তেজনা প্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেই সকল বুথগুলিতে থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। আর যা তদারকি করার জন্য থাকছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের উচ্চ আধিকারিক। এখন দেখার এই সমস্ত কিছু আয়োজন করার পরও ভোট গ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় কিনা।

