রানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো মাটির ঘর, ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচলো মা ও মেয়ে, ক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়ে গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছে। শুক্রবারও বৃষ্টি হয়েছে। আর এই বৃষ্টিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো একটি মাটির ঘর। শুক্রবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল পুরনিগমের ৩৭ নং ওয়ার্ডের রানিগঞ্জের মহাবীর কোলিয়ারী ডাঙ্গালপাড়ায়। এই ঘটনায় কোনক্রমে প্রাণে বেঁচে যান ঐ বাড়ির বাসিন্দা মা ও মেয়ে। তাদের চিৎকার শুনে বাড়ির অন্য লোক ও আশপাশের লোকেরা দৌড়ে আসেন। হেলে পড়া আলমারি সরিয়ে তাদের ঐ ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। দুুজন জখম হন। পরে তাদেরকে রানিগঞ্জের আলুগড়িয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেন। তবে এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা বেজায় ক্ষুব্ধ।
উল্লেখ্য, এই ৩৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হলেন তৃনমুল কংগ্রেসের রূপেশ যাদব।














জানা গেছে, ৩৭ নং ওয়ার্ডের মহাবীর কোলিয়ারির ডাঙাল পাড়ার এই মাটির বাড়ির বাসিন্দা গোবিন্দ বাউরি দিনমজুরি করেন। আর তার স্ত্রী পিঙ্কি বাউরি লোকের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।
শুক্রবার রাতে খাবার খাওয়ার পরে পিঙ্কি বাউরি তার মেয়েকে নিয়ে শুয়েছিলেন। আচমকাই বাড়ির মাটি উপর থেকে পড়তে শুরু করে। প্রথমে তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরে তিনি বুঝতে যখন পারেন, তখন বাড়ির আলমারি হেলে পড়েছে। মেয়েকে বাঁচাতে তিনি চেষ্টা করেন। কিন্তু তা তিনি পারেননি। এরপর তিনি চিৎকার করেন।
তা শুনে আশপাশের লোকেরা আসেন। তারা তাদেরকে উদ্ধার করেন। এদিন সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা যায় গোবিন্দ বাউরির টালি ও মাটির বাড়ি বলতে আর কিছু নেই। তবে এই ঘটনায় বাড়ির লোকেরা খুব ক্ষোভ উগড়ে দেন। পিঙ্কি বাউরি ও তার এক আত্মীয়া ইলু বাউরি বলেন, সবাই শুধু ভোট চাইতে আসে। হাতজোড় করে ভোট চায়। তারপর আর কিছু করেনা। এবারে ভোটের সময় বাড়ির ছবি তুলে নিয়ে গেলো। কিন্তু কিছুই করলো। এই ঘটনার পরে দুজনেই জানায়, এবার ভোট চাইতে আসুক? তখন দেখাবো। পাড়ার লোককে ভোট দিয়ে কি হবে? তারা যদি বিপদের সময় পাশে না থাকে।
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

