RANIGANJ-JAMURIA

৩০ হাজার কোটির প্রজেক্ট কি বিশবাও জলে ?

বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ :   ১০ হাজার কোটি টাকা নয়, প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার উন্নত মানের কয়লা সমৃদ্ধ, ১২৬০ কোটি টাকা ব্যয় করা, ৩৫. ৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ থাকা ও ৪০০ জনের সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগ ও সাড়ে ৮০০ জনের ঠিকা শ্রমিকের চাকরির সম্ভাবনা পূর্ণ এমডিও প্রজেক্ট। এলাকায় বেশ কিছু  সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমনই এক খবর ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে, রবিবার সেই খবর, এলাকার সাধারণ মানুষ পেয়ে, এলাকারই পাঁচটি সংগঠনের সদস্যরা, ওই খোলা মুখ খনির সামনে দেখালো বিক্ষোভ। এলাকার মানুষজনেরা  সেই প্রজেক্ট কোন মতেই সরিয়ে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। বলেই দাবি করে, এদিন প্রতিবাদে গর্জে ওঠে।

উল্লেখ্য গত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জামুরিয়ার কুনুস্তরিয়া এরিয়ার পড়াসিয়ায় এই MDO  প্রজেক্ট অর্থাৎ কিনা mine developer and operator প্রজেক্ট, যা ইসিএল দ্বারা পরিচালিত হয়ে, দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়লা উত্তোলন করে, সরবরাহ করার জন্য গড়ে উঠছে। যা বর্তমানে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ খনির কয়লা উত্তোলনের দায়িত্ব নিয়েছে। তারাই নাকি নানান সমস্যার কারণে গুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যন্ত্রাংশ, এমন খবর চাউড় হতেই, চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এবার এই খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তেই ,এই কয়লা খনির প্রজেক্ট কোন মতেই বন্ধ করা যাবে না, এই দাবি তুলে প্রতিবাদের সরব হলেন পাঁচটি সংগঠনের সদস্যরা।

বর্তমানে এই প্রোজেক্টের কাজ চলা অংশে হঠাৎ করেই কয়লা ও মাটি উত্তোলনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় অনেকেই মনে করেন, ১ লা জুন শনিবার থেকে প্রজেক্ট এর কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যদিও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোন মন্তব্য পাওয়া যায় না । যা নিয়ে জোর জল্পনা করে, ওই খনি টিকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যন্ত্রাংশ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয় লক্ষ্য করে, বলেই দাবি করতে থাকে তারা । রবিবার ওই খনি মুখের সামনেই বিক্ষোভ দেখায় এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের পাঁচটি সংগঠন। জানা গেছে, খনি অঞ্চলের উন্নত মানের কয়লা মজুত থাকা বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা, এই প্রজেক্টটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে, সর্ববৃহৎ ভূগর্ভস্থ খনি হিসাবে গড়ে উঠতে চলেছে।


তবে হঠাৎই  শনিবার প্রজেক্টের কয়লা উত্তোলনের কাজে লাগানো বৃহৎ আকৃতির সব যন্ত্রাংশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়, ওই বেসরকারি সংস্থাকে। পাশাপাশি সেই সংস্থায় কর্মরত বেশকিছু শ্রমিকদের কে, বাক্স  বেডিং বাগিয়ে,  পায়ে হেঁটে, খনি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখায়,যা নিয়ে অনেকটাই  চাঞ্চল্য ছড়ায়। আর সেই বিষয়টি লক্ষ্য করে, অনেকেই মনে করেন কয়লা খনির কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এখানে। তবে অসমর্থিত সূত্র মারফত জানা যায়, এখানের এই এমডিও প্রজেক্টটি, আগামী ২৫ বছরের জন্য কাজের বরাত পেয়েছে। যদি এখানে এই প্রজেক্ট হয়, তবে এলাকার মানুষ পাবে, কর্মসংস্থান, পাশাপাশি চাঙ্গা হবে, এলাকার অর্থনীতিও, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

যদিও কোটি কোটি টাকা খরচ হওয়া পরেও, কি কারনে  এই এমডিও প্রজেক্ট বন্ধ হতে পারে, সে বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ বেসরকারি সংস্থার তরফে কেউই। অন্যদিকে ই সি এল এর সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টের  তথা পড়াশিয়া কোলিয়ারীর এজেন্ট মধুসূদন সিং জানান , প্রজেক্ট থেকে যে মেশিনপত্র অন্যত্র সরানো হচ্ছে, এই বিষয়ে তার জানা নেই, তবে এই প্রজেক্টটি বন্ধ হবে না, সাময়িক সেখানে কিছু কারণে যন্ত্রাংশ সরিয়ে আনা হয়েছে, পরবর্তীতে আবারও সেই অংশে কাজ হবে, বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে এই বিষয়ে এখনও সঠিক কোন উত্তর না মেলায়, গ্রামের সাধারণ মানুষ কিন্তু চিন্তায় পড়েছেন। তারা কোন মতেই এই প্রজেক্টকে অন্যত্র চলে যেতে দেবেন না বলেই দাবি করেন। যদিও প্রজেক্ট থেকে মেশিনপত্র অন্যদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে কোন বিশেষ বক্তব্য দিতে চাননি তিনি। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একদল সদস্যদের পক্ষ থেকে  জানা যায়, কোন এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই প্রজেক্টটি। তবে এই প্রজেক্ট থেকে ভারী যন্ত্রাংশ অন্যত্র সরিয়ে নিতে আসা এক ট্রেলার ড্রাইভার জানান, তাদের মালিকের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে তারা  মেশিনপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছে, আর সে জন্যই  তারা মালিকের নির্দেশ অনুসারে  কাজ করছেন। তবে প্রজেক্ট কেন বন্ধ সেই ব্যাপারে তাদের কিছু জানা নেই বলে জানান তারা।

Leave a Reply