ASANSOLRANIGANJ-JAMURIA

বন্ধ করা হবে কোল মাফিয়া সিন্ডিকেট কাউকে ছাড়া হবে না আসানসোলে দলের প্রচারে এসে হুঁশিয়ারী কয়লামন্ত্রীর

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* বন্ধ করা হবে আসানসোল রানিগঞ্জ কয়লাখনি এলাকায় কোল মাফিয়া সিন্ডিকেট। কাউকে ছাড়া হবে না। যে কোন দুর্নীতি রোধে নরেন্দ্র মোদির সরকারের ” জিরো টলারেন্স ‘ নীতি গ্রহণ করেছে। রবিবার আসানসোলে দলের প্রার্থীদের প্রচারে এসে ঠিক এইভাবেই হুঁশিয়ারী দিলেন কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি। আসানসোলে ১৯ নং জাতীয় সড়কের শীতলা এলাকায় এদিন বিকেলে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন , গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গকে মাফিয়া শাসন ও গুণ্ডামির দিকে ঠেলে দিয়েছে। কোন উন্নয়ন হয়নি। নারীরা বাংলায় সুরক্ষিত নয়। তারা বাড়ির বাই বেরোতে ভয় পান। তিনি আরো বলেন , ৪ মে’ র পর রাজ্যে মাফিয়া রাজ শেষ করার কাজ শুরু হবে। গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হবে। বাংলাকে রক্ষা করতে এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে রেড্ডি জনগণকে ভারতীয় জনতা পার্টিকে সমর্থন করে রাজ্যে একটি ডাবল-ইঞ্জিন সরকার গঠনের জন্য আবেদন জানান।তিনি নারী সুরক্ষার বিষয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের জোট সঙ্গীদের নিশানা করেন।

তিনি বলেন , এই দলগুলো নারী সুরক্ষা নিয়ে আন্তরিক নয়। তারা আন্তরিক হলে শনিবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হয়ে যেতো। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস এবং তার সঙ্গীরা এমন নীতি সমর্থন করে যা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।তিনি বলেন, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো চায় না যে দেশের নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার লাভ করুক। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর বিরোধিতার কারণে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

এই দলগুলো আগেও নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে এই বাংলায় শাসক দলের নেতৃত্বে একজন মহিলা থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে। দেশের নারীরা দেখেছে কোন দলগুলো তাদের অধিকার বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় , বিরোধীরা দাবি করে যে কেন্দ্রীয় সরকার নারী সংরক্ষণ বিলের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চেয়েছিল।

জি কিষাণ রেড্ডি এই দাবি উড়িয়ে বলেন , রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা শুধু প্রতিবাদের জন্যই প্রতিবাদ করছে। তাদের কাছে কোনো শক্ত যুক্তি নেই। আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার নতুন কিছু করেনি। কংগ্রেস সরকারের আমলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

প্রতিটি রাজ্যে আসনের সংখ্যা অনুযায়ী আসনের শতাংশ বাড়ানো হচ্ছিল। কংগ্রেস আমলেও একই ধরনের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল এবং এবারও তাই করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং টিএমসির মতো দলগুলো এর বিরোধিতা করেছে। কারণ তারা চায়নি যে আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে নারী, এসসি-এসটি, ওবিসি এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষ ক্ষমতায় আসুক। তারা চেয়েছিল কয়েকটি পরিবার যেন ক্ষমতায় থাকে। তবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আর তেমনটা হবে না।

দেশের সব অংশের মানুষ ক্ষমতায় ভাগ পাবে, নতুন মুখেরা সুযোগ পাবে এবং বিজেপি এর জন্যই চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, কংগ্রেস এবং টিএমসি সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকে। বাংলায় একে অপরের বিরোধিতা করার ভান করে।কয়লা পাচার মামলায় সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে কয়লা মন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন কেন্দ্রীয় সরকার এই ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে না, সেটা ভুল। তা না হলে, এই মামলায় সিবিআইয়ের হাতে ইসিএলের ও সিআইএসএফের আধিকারিকরা গ্রেফতার হতোনা।

যারা জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে বলে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী এদিন দাবি করেন। কয়লা মন্ত্রক ও ইসিএল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে কয়লা মন্ত্রী বলেন, যারা এইসব তারা ঠিক বলছেন না। ইসিএলে কর্মী সংকোচনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী এদিন মানতে চাননি। তিনি বলেন, ইসিএলের পেরোলে হয়তো কর্মীর সংখ্যা হয়তো কমেছে। কিন্তু ঠিকা কর্মীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তার এও দাবি, কয়লার উৎপাদন দেশে অনেকটাই বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, তিনি কেন দাবি করছেন যে ৪ মের পর বাংলায় কয়লা মাফিয়াদের যুগ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে এই এলাকায় অনেক কয়লা মাফিয়া বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাই তাদের বক্তব্যে একটি স্ববিরোধিতা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে জি কিষাণ রেড্ডি বলেন, বিজেপির কাছে মাফিয়া মাফিয়াই, সে যে দলেরই হোক না কেন। বিজেপি কখনও এই ধরনের কাজকে প্রশ্রয় দেয় না।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *