সুরক্ষা ও বকেয়ার দাবিতে সালানপুরে বেসরকারি কারখানায় বিক্ষোভ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
. *বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* নিরাপত্তার অভাব, অনিয়মিত কাজ এবং পিএফ ও ইএসআই না থাকার অভিযোগে শনিবার সকালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া এলাকার ‘বালাজি সিরামিক্স’ কারখানায়।কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মীরা। কারখানার ভিতরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কর্মরত কর্মীরা। পাশে দাঁড়ান নেতা অমরনাথ মাহাতো। বিক্ষোভের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে সালানপুর থানার পুলিশ। কর্মীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর কাজ করলেও কারখানায় কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের জন্য কোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচালয় পর্যন্ত নেই। কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অত্যাচারের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ মহিলাদের।কর্মীদের দাবি, মাসে প্রতিদিন তাঁদের কাজ দেওয়া হয় না। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রায়ই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।













যার ফলে চরম আর্থিক অনটনের মুখে পড়ছে তাঁদের পরিবার।এদিন আন্দোলনরত কর্মীরা বলেন, একই চত্বরে দুটি পৃথক ইউনিট চলে। একটি হলে ” বালাজি গ্লাস ফ্যাক্টরি’ এবং ‘বালাজি সিরামিক্স’। গ্লাস ফ্যাক্টরির কর্মীরা পিএফ এবং ইএসআইর সুবিধা পেলেও, সিরামিক্সের কর্মীদেরকে সেই সমস্ত অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছে।বিক্ষোভকারীরা জানান, শনিবার কারখানায় কাজে এসে জানানো হয় গ্যাসের অভাবের কথা। যার ফলে আগামী কাল থেকে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় যে, কাজ বন্ধ থাকার কারণে শ্রমিকদের কোনো মজুরি দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তের পরই শনিবার সকালে শ্রমিকদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। তাঁরা অবিলম্বে কারখানায় ডেকে পাঠান আন্দোলনকারী নেতা অমরনাথ মাহাতোকে।শ্রমিকদের বক্তব্য, একই কারখানায় দু’রকম নিয়ম চলছে। গ্লাস ফ্যাক্টরির কর্মীরা সব সুবিধা পাচ্ছেন, আর আমরা সিরামিক্সের শ্রমিকেরা বছরের পর বছর বঞ্চিত। তার ওপর যখন-তখন কাজ বন্ধ করে পেটে লাথি মারা হচ্ছে।শ্রমিকদের কাছ থেকে সমস্ত অভাব-অভিযোগ শোনার পরে, নেতা অমরনাথ মাহাতো শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হন। দীর্ঘ আলোচনার পর কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
আগামী ২ জুনের মধ্যে কারখানার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।তবে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চাননি কারখানা কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা কথা বলতে গেলে তাঁরা বিষয়টি এড়িয়ে যান।আলোচনা শেষে শ্রমিক নেতা অমরনাথ মাহাতো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, শ্রমিকদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য।
আগামী ২ জুনের মধ্যে যদি কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পিএফ, ইএসআই, সুরক্ষা ও নিয়মিত কাজের সমস্যার সমাধান না করে, তবে আগামী দিনে এই কারখানায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে। আপাতত ২ জুনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দেন্দুয়ার বালাজি সিরামিক্সের কয়েকশো শ্রমিক। তার মধ্যে দাবি না মিটলে, বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তারা।


