ASANSOL

আসানসোলে খুন হওয়া দলের কর্মীর বাড়িতে অধীর চৌধুরী ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বাংলার সাধারণ মানুষ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক থাকার আবেদন করলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী। সোমবার বিকেলে আসানসোলের সেনরেল রোডে নব অনন্যা,কমপ্লেক্সের বাসিন্দা গত দুদিন আগে খুন হওয়া মৃত দলের কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের আবাসনে আসেন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন অধীর চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি, কাউন্সিলার এস এম মুস্তাফা, শাহ আলম খান সহ অন্য নেতারা। অধীর চৌধুরী মিনিট পনেরো মতো কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে ছিলেন।

তিনি এই ঘটনার জন্য পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ও তাদের সবরকম ভাবে পাশে থেকে সব ধরনের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন।পরে সাংবাদিক সম্মেলনে অধীর চৌধুরী বলেন, পশ্চিম বাংলার ভোট মানেই হিংসা, লুঠপাট, রক্তপাত, রাহাজানি ও খুন। আর এই সবকিছুই করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই তৃণমূল কংগ্রেসের এই সন্ত্রাস আটকাতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। এর সাথে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক থাকার আবেদন করেন তিনি। তার কথায় তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের অধীনে কাজ করা রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ভুল দিশা দেখাচ্ছে। তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার বক্তব্য, তৃনমুল কংগ্রেসের গুন্ডারা এখন প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই ভোট পরবর্তী হিংসার বলি হতে হলো আসানসোলর দেবদীপকে।দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নিন্দা করেছেন। এর পাশাপাশি রাহুল গান্ধী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন তার এক্স হ্যান্ডেলে। অধীর চৌধুরী বলেন, দেবদীপের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট যাতে চিকিৎসক ঠিক মতো না লেখেন, তার জন্য শাসকদলের নেতারা আসানসোল জেলা হাসপাতালে প্রভাবিত করতে চাইছেন বলে আমাদের কাছে খবর আছে। এর কারণ হলো যাতে দোষীদের কম শাস্তি হয়।

কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই মামলা নিয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। যাতে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি হয়। এর পাশাপাশি তিনি এই পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গতঃ, গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রাতে মোটরবাইকে স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হন দেবদীপ। পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, বচসার জেরে ভগত সিং মোড় ও পাঁচপুলিয়া রেল টানেলের কাছে দু দফায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। নিজের আবাসনের গেটের সামনেও তাঁকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে শুভদীপ মণ্ডল, রবিউল আলম, মহ আরমানের বিরুদ্ধে।

শনিবার সকালে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার খুনের মামলা করার পাশাপাশি মূল অভিযুক্ত শুভদীপ মণ্ডল, রবিউল আলম, মহম্মদ আরমানকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও তদন্ত করা হচ্ছে।ভোটের ঠিক দুদিন পরে, দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় মৃত্যু আসানসোলের রাজনীতিতে এনেছে এক নতুন মোড়।

একদিকে শোকাতুর পরিবার যখন সুবিচারের আশায় দিন গুনছে, অন্যদিকে অধীর চৌধুরীর এই সফর কংগ্রেস কর্মীদের মনে লড়াইয়ের নতুন রসদ এনে দিলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।এদিকে, এদিন সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের একটি দল অধীর চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সঙ্গে কংগ্রেস নেতার কথাও জানা গেছে। জানা গেছে, সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বর নির্দেশ মতো এদিন তারা অধীর চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের কোন জোট হয়নি।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *