পালা বদলের পরেই অন্য ছবি ১৫ বছরের বেশি সময় পরে খুললো আসানসোলের দুর্গা মন্দির, শুরু নিত্য পুজো
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরে আসানসোলের জিটি রোডের বস্তিন বাজার এলাকায় যেন আনন্দের নতুন সকাল নেমে এসেছে। শ্রী-শ্রী দুর্গামাতা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট পরিচালিত মন্দিরের দরজা প্রায় দেড় দশক পর স্থায়ীভাবে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কের জেরে এই মন্দির বছরের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকত। ফলে সাধারণ ভক্তরা শুধুমাত্র বিশেষ উৎসবের দিনেই মা দুর্গার দর্শন করার সুযোগ পেতেন।














আসানসোল উত্তর বিধানসভস কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, তিনি ও দল জয়ী হলে মন্দিরটি বছরের ৩৬৫ দিন খোলা রাখা হবে। সোমবার বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পরে সন্ধ্যায় সেই মন্দিরে চলে আসেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা। দরজা খুলে দেওয়া হয়। বিজেপির কর্মীরা সেখানে পুজো করেন। সোমবারের পরে মঙ্গলবার সকালে মন্দির চত্বরে উৎসবের আবহ দেখা যায়।
এদিন সকালে মন্দির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বিপুল সংখ্যায় ভক্ত সমবেত হয়ে বিধি মেনে মা দুর্গার পুজার্চনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাতে সামিল হন। সবাই একে তাদের আস্থার বড় জয় বলেই মনে করেন।এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ২০০৯ সালে এই মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে রাজ্যের শাসক দল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ দেখতে, এই মন্দিরের পুজো বন্ধ করে দিয়েছিলো। যদিও, হাইকোর্টের নির্দেশ ছিলো, যাতে এই মন্দিরে পুজো হয়।
কিন্তু বিশেষ এক সম্প্রদায়ের মানুষজনকে খুশি করতে তৃণমূল কংগ্রেস তা করতে দেয়নি।মঙ্গলবার এই বিষয়ে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি ঐ মন্দিরে পুজো দিয়ে নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছিলাম। তখন কথা দিয়ে বলেছিলাম দল জিতলে এই মন্দিরের দরজা সবসময়ের জন্য খুলে যাবে। নিত্য পুজো হবে। সোমবার সন্ধ্যার পরে সনাতনী হিন্দুরা সেখান যান ও দরজা খুলে পুজো দেন। আমি জয়ের পরে বলেছিলাম যাবো। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের তরফে আমাকে মানা করা হয়। তাই আমি যাইনি।
৯ এপ্রিল বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে মন্দিরে যাবো ও পুজো আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করবো। প্রায় ১৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়া এলাকায় এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়, তার জন্য বস্তিন বাজার এলাকায় মোতায়েন করা হয় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী।

