দলের হার নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক মন্ত্রী ও একাংশ নেতাদের অহঙ্কারেই পতন হয়েছে, মানুষ ভোট দেননি
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ১৫ বছর শাসন ক্ষমতায় থাকার পরে এবারের নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য স্তরে এই হারের কারণ খুঁজতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু তার আগেই নতুন সরকার গঠনের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দলের হারের কারণ নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু। সরাসরি না হলেও, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক ও জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করে দাসু বলেন , ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। আর এই ধরনের নেতাদের কারণেই দল আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন।














তিনি বলেন, আমি বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতিতে ২৫ বছর এবং শাসক দলে ১৫ বছর কাটালাম। কিন্তু এই শেষ ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা ক্ষমতা পেয়ে অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। সেই অহঙ্কার মানুষ ভালোভাবে নেননি। মানুষের সঙ্গে এইসব নেতারা ভালোভাবে কথা বলেননি। মানুষই ভোটার। সেই ভোটারেরা একটা সময় তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছিলেন। এবার তারা আর তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এই সব নেতাদের মনে রাখা উচিত ছিলো, যেখানে রাবণের অহংকারও টেকেনি।
সেখানে এদেন অহঙ্কার কি করে টিকবে। সেই কারণেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটেছে। তার কথায়, আসানসোলের বস্তিন বাজার দুর্গা মন্দিরের মতো ইস্যু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেনই যে, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে এই মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। আসল কথা হলো, এইসব নেতা ও জনপ্রতিনিধিরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে দলকে বদনাম করেছে। আমি নিশ্চিত যে এইসব নেতারা তৃণমূল কংগ্রেসে আর থাকবে না। তিনি বিজেপিকে সতর্ক করে দিয়ে এও বলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এরা সেই দলে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন।
সেইসব দলত্যাগীদের যদি জায়গা দেওয়া হয়, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎও এই রকম হবে।দাসু বলেন , তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কঠোর পরিশ্রম করে দলটি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে এই দলটি শক্তিশালী হয়েছিল। আজ যখন তিনি ক্ষমতায় নেই, তখন দলটিকে আবারও তাঁর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। দাসু বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সারাজীবন মানুষের মধ্যে থেকে রাজনীতি করেছেন এবং জীবনযাপন করেছেন, মানুষ আবারও তাঁর দলের ওপর আস্থা রাখবেন।

