সরকার বদলের পরে বদল পরিস্থিতির আসানসোলে তৃণমূল কাউন্সিলারের দখলে থাকা ম্যারেজ হল হাতে নিলো পুরনিগম
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল পুরনিগমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীনগর এলাকায় পুরনিগমের ” শগুন ম্যারেজ হল” নিয়ে বেশ কিছু সময় ধরে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ ছিল যে আসানসোল পুরনিগমের ২৩ নং তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক ঘনিষ্ঠ সি.কে রেশমা তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডারে ম্যারেজ হলটি না পাওয়া সত্ত্বেও গত এক বছর ধরে এই ম্যারেজ হল টিকে নিজের দখলে রেখেছিলেন।মাস ছয়েক আগে যখন আসানসোল পুরনিগমের পক্ষ থেকে সেটিকে দখল নেওয়ার চেষ্টা করা তখন কাউন্সিলর বাধা দেন। শুধু তাই সেদিন যে আধিকারিকরা ম্যারেজ হলটি খালি করাতে এসেছিলেন তাদের নামে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন কাউন্সিলার।














কিন্তু ৪ মে’ র পরে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি আসানসোলে পরিস্থিতি বদল হয়েছে। সেই বদলে যাওয়া পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার আসানসোল পুরনিগমের আইনি উপদেষ্টা সুদীপ্ত ঘটক এবং এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আর.কে শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে পুরনিগমের একটি দল এলাকায় আসেন। তারা ম্যারেজ হলটি পুরনিগমের দখলে নিয়ে নেন।এই বিষয়ে আসানসোল পুরনিগমের আইনি উপদেষ্টা ও এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ২০২৫ সালে টেন্ডারে না পাওয়া সত্বেও অবৈধভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সি.কে রেশমা ম্যারেজ হলটি নিজের দখলে রেখেছিলেন।
আসানসোল ওম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি হিসেবে এই কাউন্সিলার দখল করে রেখেছিলেন। ২০২৫ সালে আসানসোল পুরনিগমের এক প্রতিনিধি দল এটি দখল নিতে আসে। কিন্তু কাউন্সিলার শুধু বাধাই দেননি, পুর আধিকারিকদের নামে থানায় মামলা করেন। তারপরে তাকে এই ম্যারেজ হল খালি করার জন্য চিঠি দেওয়াও হয়েছিলো।। তারপরেও তিনি খালি করেননি। দিন কয়েক আগে তিনি আসানসোল পুরনিগমে মেয়রের কাছে এই ম্যারেজ হলের চাবি দিয়ে আসেন। এদিন চাবি খুলে ম্যারেজ হলের ঘরে খালি করে দখল নেওয়া হয়েছে। তারা আরো বলেন, কত টাকা এই ম্যারেজ হলের জন্য আসানসোল পুরনিগমের পাওনা রয়েছে, তা অর্থ দপ্তর খতিয়ে দেখছে।
তার হিসেব হলে, তা কাউন্সিলারের কাছে পাঠানো হবে। এর পরবর্তী সময়ে আসানসোল পুরনিগম ও পুর এবং নগরোন্নয়ন দপ্তরের যেমন নির্দেশ আসবে সেই মতো কাজ করা হবে বলে আইনি উপদেষ্টা ও এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন। এদিন আসানসোল পুরনিগমের আইনি উপদেষ্টা ও এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পুর কর্মীদের নিয়ে ম্যারেজ হলের ঘরের তালা খুলছিলেন, তখন একটা ঘরে দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ও প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটকের ছবি সহ ব্যানার রয়েছে। অন্যদিকে, কাউন্সিলরের সিকে রেশমা বলেন, ৪ মে’র পর যে ঘটনাক্রম হয়েছে, তাতে আমি আর এইসবে জড়িয়ে থাকতে চাই না। তাই আমি স্বেচ্ছায় ম্যারেজ হলের চাবি আসানসোল পুরনিগম ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি একটা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন চালাতাম।

