বরাকরে যুবক খুনে রহস্য ঘনীভূত, ধৃত বন্ধুর ৮ দিনের পুলিশ হেফাজত
*বেঙ্গল মিরর, বরাকর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের কুলটি থানার বরাকর ফাঁড়ি এলাকার স্টেশন রোড সংলগ্ন আলু গদ্দি এলাকার বাসিন্দা ও লটারি ব্যবসায়ী গণেশ বিশ্বকর্মার ২৪ বছর বয়সি ছেলে সোনু বিশ্বকর্মার পচাগলা দেহ উদ্ধারকে ঘিরে বরাকর ও কুলটি জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পর সোনুর বন্ধু রনি ঘোষকে গ্রেফতার করেছে কুলটি থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত চাওয়া হয়। বিচারক সেই আবেদনের ভিত্তিতে ধৃতর জামিন নাকচ করে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। মৃত যুবকের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতর বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা হয়েছে।













জানা গেছে, গত রবিবার ৩১ মে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সোনু বিশ্বকর্মা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরে বুধ কুলটি থানার বেনা গ্রামের জঙ্গল থেকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে একটি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা সেই দেহটি সোনু বিশ্বকর্মার বলে শনাক্ত করেন।তদন্তে উঠে এসেছে, রবিবার রাতে সোনু তার বন্ধু রনি ঘোষের সঙ্গে মোটরবাইকে লচ্ছিপুর মোড় এলাকার একটি বিরিয়ানির দোকানে যায়। সেখান থেকে নিয়ামতপুর হয়ে কুলটির দিকে যাওয়ার পথে ডিসেরগড় রোডের ম্যাগাজিন এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের সঙ্গে তার দেখা হয়। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর সোনুর বন্ধু রনি ঘোষ তাকে ঐ যুবকের সঙ্গে রেখে ফিরে আসে।
এরপর থেকেই সোনুর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।এদিকে নিখোঁজ হওয়ার কিছু সময় পরে সোনুর মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে যোগাযোগ করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ৬ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে টাকা জোগাড় করার কথা বলা হয়। তবে মুক্তিপন দিতে সোনুর পরিবারের তরফে আর্থিক অক্ষমতার কথা জানানো হলে ফোন কেটে দেওয়া হয়।বুধবার সকালে দেহ উদ্ধারের পরে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সোনুর বন্ধু রনি ঘোষকে গ্রেফতার করেছে।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে এসিপি (কুলটি) জাভেদ হুসেন জানিয়েছেন। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি শুধুই খুনের ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো অপহরণ চক্র বা বড় অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে। এর পাশাপাশি সোনুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কি ছিল, তা জানতে কুলটি থানার পুলিশ তদন্ত করছে।


