কুলটিতে নর্দমা থেকে অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মীর দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের, ক্ষোভ
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির ড্যাডি গ্রাউন্ডের কাছে একটি নর্দমা থেকে ইসিএলের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলের পরে এই মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর শুক্রবার বিকেলের পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃত অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মীর পরিবারের সদস্যদের তরফে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে। তারা অশোক নুনিয়া নামে এক সুদের কারবারির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় এলাকার মানুষেরা ক্ষুব্ধ। কুলটি থানার টহরম কারখানা এলাকার বাসিন্দা মৃত অবসরপ্রাপ্ত ইসিএলের কর্মীর নাম অপরাধ বাউরি (৬১)।













শনিবার দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে অপরাধ বাউরির মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুরের তহরম কারখানা এলাকার বাসিন্দা অপরাধ বাউরি বেজডি কোলিয়ারি থেকে দুমাস আগে অবসর নেন। অপরাধ বাউরি মৃতদেহ আজ ড্যাডি গ্রাউন্ডের একটি নর্দমা থেকে উদ্ধার করা হয় বৃহস্পতিবার বিকেলের পরে।শুক্রবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা নিয়ামতপুর ইস্কো রোডে তহরম কারখানার কাছে মরদেহ রেখে প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি করেন।পরিবারের সদস্যদের তরফে মেয়ে আশা বাউরি বলেন , আমার বাবা অপরাধ বাউরি ড্যাডি গ্রাউন্ডের কাছের বাসিন্দা অশোক নুনিয়ার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন।
অশোক নুনিয়া সুদের কারবারি। অশোক নুনিয়া প্রায়ই তার বাড়িতে আসতেন এবং আমার বাবাকে সেখানে নিয়ে যেতেন। সেখানে আমার বাবাকে মদ ও মাদক সেবন করানো হতো। তিনি আরো বলেন,বৃহস্পতিবার অশোক নুনিয়া আমার বাবাকে ড্যাডি গ্রাউন্ডে ডেকে নিয়ে গেছিলেন। এরপর তিনি রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে যখন আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি, তখন অশোক নুনিয়া নিজেই আমাদের জানান যে আমার বাবা নর্দমায় পড়ে আছেন।
এরপর আমরা তাকে কাদামাখা অবস্থায় নিয়ে আসি। পুলিশের যথাযথ তদন্ত ও অপরাধীর কঠোরতম শাস্তির দাবিতে আমরা রাস্তা অবরোধ করেছি।এই ঘটনার খবর পেয়ে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি ( কুলটি) জাভেদ হুসেনের নেতৃত্বে কুলটি থানা ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দিয়ে রাস্তা অবরোধ মুক্ত করেন।পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, পরিবারের তরফে অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঐ ব্যক্তির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে।



