আসানসোলের প্রবীণ চিকিৎসক ডাঃ পি আর মুখোপাধ্যায় প্রয়াত
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* প্রয়াত হলেন আসানসোল তথা শিল্পাঞ্চলের বিশিষ্ট প্রবীণ শল্য চিকিৎসক ডাঃ প্রতিভা রঞ্জন মুখোপাধ্যায়। তিনি সর্বত্র ডাঃ পি আর মুখার্জি নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নিজের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হলো আসানসোলের জিটি রোডের লোয়ার চেলিডাঙ্গার আসানসোল মেডিকেল সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড। যা আসানসোলে এক ডাকে পি আর মুখার্জির নার্সিংহোম হিসেবে পরিচিত। শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ ৯০ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হলেন তারই নার্সিংহোমে। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ, কবি সাহিত্যিক এবং সিপিএম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।দীর্ঘদেহী জনদরদী চিকিৎসক পি আর মুখোপাধ্যায় আসানসোল শিল্পাঞ্চলের চিকিৎসা জগতে ছিলেন অভিভাবক ।














চিকিৎসক জীবনের প্রথম দিকে তিনি আসানসোল মহকুমা হাসপাতালে ছিলেন। নামজাদা চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত নার্সিংহোম সকল স্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত ভরসার জায়গা। ৯০- এর দশকে তিনি চেলিডাঙ্গায় নার্সিংহোম শুরু করেন। সমস্ত রকম চিকিৎসা যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তার দিকে লক্ষ্য রেখেই তৈরি করেন আসানসোল মেডিক্যাল সেন্টার। যে কারণে অল্প দিনের মধ্যেই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠে তার এই নার্সিংহোম। প্রতিদিন তিনি বেশ কিছু মানুষের বিনা পয়সায় চিকিৎসায় অস্ত্রপ্রচার পর্যন্ত করতেন।আসানসোল শিল্পাঞ্চলের প্রবীণ সাংবাদিক এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তার পরিচিত বিশ্বদেব ভট্টাচার্য বলেন, দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক কাজেও নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন। বিশেষ করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সংস্কৃতির প্রসারে তার ভূমিকা ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ভাষা শহীদ স্মারক সমিতির সভাপতি ছিলেন। তিনি ভালো কবিতা লিখতে পারতেন। তার সঙ্গে আবৃত্তি করতেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের একজন সুবক্তা।
জানা যায়, তার সঙ্গে জীবনানন্দ দাশের সাথে তার সরাসরি পরিচয় গড়ে উঠেছিল ছাত্র জীবনে। আসানসোলের গাড়ুই নদী বাঁচানো থেকে শুরু করে তার নার্সিংহোমের কাছাকাছি এলাকায় একের পর এক গাছ কাটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছিলেন। বাম জমানার একেবারে শেষ দিকে, ২০০৬ সালে আসানসোল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি সিপিএমের প্রার্থী হয়ে জিতে বিধায়ক হন। তাকে বিধানসভায় হেলথ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য করা হয়েছিলো। তার মৃত্যুর খবর পেয়েই শনিবার বিকেলে তার বাড়ি পৌঁছে যান সিপিএমের জেলা নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায় সহ অসংখ্য মানুষজনেরা।বেশ কিছুদিন বয়সজনিত শারীরিক অসুবিধার কারণে প্রবীণ এই চিকিৎসক নিজেকে ঘরবন্দী করে রেখেছিলেন। তবে, এই সময়ে সাংবাদিক, সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষজনেরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। প্রয়াত চিকিৎসকের ছেলে ঋত্বিক মুখার্জি বলেন, বাবার তৈরি নার্সিংহোমে গত ৭ জুন তাকে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেল ৪টে ৫ মিনিটে বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাবার ইচ্ছে মতো রবিবার সকালে সকালে ত্রিবেণীতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


