ASANSOL

ইসিএলের কয়লাবাহী ডাম্পারের ধাক্কায় আহত যুবতী, সালানপুরে ‘নো-এন্ট্রি’র নিয়ম বদল নিয়ে ক্ষোভ এলাকায়

*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ফের বেপরোয়া গতি ও ডাম্পারের দৌরাত্ম্যের জেরে ঘটলো এক পথ দুর্ঘটনা। শনিবার সকালে ইসিএলের একটি কয়লাবাহী ডাম্পারের ধাক্কায় গুরুতরভাবে জখম হলেন এক যুবতী। ঘটনাটি ঘটেছে সালানপুর থানার দেন্দুয়া মোড়ের কাছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই দূর্ঘটনার পরে স্থানীয় প্রশাসনের ‘নো-এন্ট্রি’ নীতির পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত যুবতীর নাম মমতা প্যাটেল(২৮)। তিনি রূপনারায়ণপুর সীমান্ত পল্লীর বাসিন্দা। শনিবার তিনি নিজের স্কুটি নিয়ে আসানসোলের দিক থেকে রূপনারায়ানপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় ইসিএলের একটি ডাম্পার বনজেমারী কোলিয়ারীর সাইডিংয়ে কয়লা খালি করার জন্য আসছিল।

দেন্দুয়া মোড়ের সামনে ডাম্পারটি হঠাৎ ডানদিকে টার্ন নিতে গেলে, স্কুটি আরোহী মমতা প্যাটেল ডাম্পারের ডানদিকের চাকার নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনায় তাঁর বাম পায়ে গুরুতর চোট লাগে। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সালানপুর থানা ও কুলটি ট্রাফিক গার্ড পুলিশ। পুলিশ রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবতীকে উদ্ধার করে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।দুর্ঘটনার পরই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ডাম্পারের চালক। তবে সালানপুর থানার পুলিশ ঘাতক ডাম্পারটিকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে এবং চালকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

এই ঘটনার পরে ইসিএলের কয়লা বোঝাই ডাম্পারগুলির চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চললেও , কয়লাবাহী ডাম্পারগুলিকে আটকে রাখা হয়।এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, অতীতে দুর্ঘটনা এড়াতে ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সকালের দিকে ইসিএলের এই ভারী গাড়িগুলির যাতায়াতের ওপর ‘নো-এন্ট্রি’ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার আসার পর সেই কড়া নো-এন্ট্রি নিয়ম তুলে নেওয়া বা শিথিল করা হয়েছে। আর তার জেরেই সকালের ব্যস্ত সময়ে এই ধরণের বেপরোয়া ডাম্পারগুলি রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারণে এদিনের এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি মণ্ডল-৪ র সভাপতি চিন্ময় তেওয়ারি বলেন, একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই আহত যুবতী যেন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পান, আর সেই কারণেই ইসিএলের ডাম্পারগুলিকে আটকে রাখা হয়েছে। নো-এন্ট্রির নিয়ম শিথিল হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করে নেন যে, সরকারি নির্দেশ আসার পর নো-এন্ট্রির সময়সীমা কমানো হয়েছে।

তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এদিন যে ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল, তাতে প্রমাণিত হয় যে আগের দেওয়া নো-এন্ট্রির সময়সীমাটাই সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য একদম ঠিক ছিল। পুলিশ এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ব্যস্ত রাস্তায় কয়লা বোঝাই ভারী ডাম্পারের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।পুলিশ জানায়, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *