নায্য মজুরি ও ঠিকাদার রাজ অবসানের দাবি সালানপুর বিডিও অফিসের সামনে সাফাই কর্মীদের বিক্ষোভ
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং ঠিকাদারি প্রথার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সোমবার সালানপুর বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন রূপনারায়ণপুর এলাকার সাফাই কর্মীরা।দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এলাকার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া এই কর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় চরম শোষণের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। অবিলম্বে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।বিক্ষোভকারী সাফাই কর্মীদের বক্তব্য, গত ২৫ বছর ধরে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার কাজ করে আসছেন।














আগে এলাকার বাড়ির মালিকেরা সরাসরি তাদের পারিশ্রমিক দিতেন, যা দিয়ে সংসার মোটামুটি চলে যেত। কিন্তু অভিযোগ, প্রায় দু’বছর আগে রাজনৈতিক মদতে এই ব্যবস্থাকে ‘ঠিকা সিস্টেমে’ রূপান্তর করা হয়।ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতে রাজি হলেও, তারপর থেকেই শুরু হয় চরম আর্থিক শোষণ। কর্মীদের অভিযোগ একই কাজ করলেও কেউ পাচ্ছেন ৯ হাজার, কেউ ৭ হাজার, আবার কাউকে মাত্র ৩ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই নামমাত্র পারিশ্রমিকও মাসের শেষে সময়মতো মিলছে না।

প্রতি মাসে ঠিকাদার বদলে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার বদলালে বেতন বাড়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে দিন দিন তাদের আয় কমছে। আবর্জনা ফেলার গাড়িগুলোর অবস্থা শোচনীয়। এই সামান্য টাকা দিয়ে পরিবার চালাবেন নাকি গাড়ির মেরামত করবেন, তা নিয়ে দিশেহারা কর্মীরা। তবে এক সাফাই কর্মীর বক্তব্য, বর্তমান সরকারের আমলে গরীব অসহায় মানুষের শোষণ মেনে নেওয়া হবে না।
আমাদের দাবি না মানলে আমরা কাজ বন্ধ করে আরও বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।এদিন আন্দোলন করা সাফাই কর্মীদের মূল দাবিগুলি হলো, বৈষম্যমূলক ‘ঠিকা প্রথা’ সম্পূর্ণ দূর করতে হবে। ঠিকাদারের অধীনেই যদি কাজ করতে হয়, তবে সরকারি নিয়ম মেনে পিএফ এবং ইএসআই এর সুবিধা দিতে হবে। কাজের জন্য নির্দিষ্ট ড্রেস কোড বা পোশাক দিতে হবে।ন্যায্য ও সম-মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।আবর্জনা সংগ্রহের গাড়িগুলি অবিলম্বে সরকারি খরচে মেরামত করে দিতে হবে।
সাফাই কর্মীরা এদিন তাদের এই সমস্ত দাবি নিয়ে সালানপুরের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিওর দ্বারস্থ হন। সাফাই কর্মীদের দাবি নিয়ে ব্লক প্রশাসন এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে দাবি পূরণ না হলে রূপনারায়ানপুর এলাকায় সাফাই পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এদিকে, ব্লক প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, তারা সাফাই কর্মীদের দাবি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে।


