কুলটিতে যুবক খুনের মামলা, দোষী সাব্যস্ত দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বিচারকের
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও দেব ভট্টাচার্যঃ ( Conviction in a murder case at asansol court ) ২০১৮ সালের মে মাসে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কুলটি থানা এলাকায় এক যুবক খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলো। সোমবার আসানসোল আদালতের এডিজে বা অতিরিক্ত জেলা জজ ( প্রথম) মনোজ কুমার প্রসাদ কুলটি থানার আলডির সায়ের পাড়ার বাসিন্দা দোষী সাব্যস্ত রাকেশ বাউরি ও সাগর বাউরির এই সাজা ঘোষণা করেন। এই মামলার সরকারি আইনজীবী বা পিপি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, পুলিশ এই দুজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০২, ৩৬৪, ২০১ ও ৩৮৪ নং ধারায় ( কেস নং ১৮০/১৮) মামলা করেছিলো। ৪ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষী দেন।











অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৮৪ নং ধারা প্রমান করা যায়নি। তবে বাকি তিনটি ধারা প্রমান হওয়ায় গত ৫ আগষ্ট শুক্রবার বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। সরকারি আইনজীবী আরো বলেন, এদিন বিচারক রায় দানের তিনটি ধারার মধ্যে দুটিতে যাবজ্জীবন ও একটিতে ৭ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনটি ধারার মধ্যে একটি ১০ হাজার ও বাকি দুটিতে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৮ মে সন্ধ্যাবেলায় পার্টি করার নাম করে কুলটি থানার আলডি সায়ের পাড়ার বাসিন্দা তাপস বাউরিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তারই সম্পর্কে মাসতুতো ও খুড়তুতো ভাই রাকেশ বাউরি ও সাগর বাউরি। সেদিন রাতে তাপস বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকেরা তার খোঁজ শুরু করেন। তারা তাপসের কথা জানতে রাকেশ ও সাগরের বাড়ি যায়। কিন্তু তারা বলে, তাপস আগেই বাড়ি চলে এসেছে। তারা জানেনা। এরপর রাকেশ ও সাগর পালিয়ে যায়। পরের দিন ৯ মে তাপসের বাবা রবীন বাউরি গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে কুলটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ রাকেশ ও সাগরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরায় তারা স্বীকার করে যে, তারা তাপসকে মেরে নরসুমোদা কোলিয়ারিতে একটি পরিত্যক্ত চানকে ফেলে দিয়েছে। এরপর তাপসের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন অবশ্য তাপসের মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাদের কাছ থেকে তাপসের আংটি, মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র পায়। পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে মোট চারটি ধারায় মামলা করে।
সেই সময় পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত ও ধৃতদের জেরা করে জানতে পেরেছিলো, তাপস বাউরির পাতনি বাউরি নামে এক পিসি ছিলেন। তিনি ইসিএলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। তার যে টাকা ছিলো, তা নেওয়া নিয়ে বিবাদের জেরে রাকেশ ও সাগর বাউরি পরিকল্পনা করে তাপসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে। পরে দেহ পরিত্যক্ত চানকে ফেলে দেয়।

