আসানসোল জেলা হাসপাতালের মানবিক উদ্যোগ
অজ্ঞাত পরিচয় মানসিক রোগী তথা সদ্যোজাত শিশুর মাকে সুস্থ করে পার্শ্ববর্তী জেলার সরকারী মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর, শিশুকে সিডব্লিউসি কে হস্তান্তরের ভাবনা
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত ও রাজা বন্দোপাধ্যায় : অজ্ঞাত পরিচয় মানসিক রোগী তথা সদ্যোজাত শিশুর মাকে সুস্থ করে পার্শ্ববর্তী জেলার সরকারী মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে মানবিক নজীর গড়ল আসানসোল জেলা হাসপাতাল।














গত ১৬ ই জুন আসানসোল রেল স্টেশনের জিআরপি স্টেশন চত্বর থেকে উদ্ধার করে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মা এবং তার সদ্যোজাত শিশুকে। মা ও শিশুকে উদ্ধার করে রেল পুলিশ নিয়ে আসে আসানসোল জেলা হাসপাতালে। আসানসোল জেলা হাসপাতালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট মমতাজ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে মেটারনিটি ওয়ার্ডে মাকে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হয়। বাচ্চাকে রাখা হয় এসএনসিইউ ওয়ার্ডে। দুই সপ্তাহের ওপর চিকিৎসা করার পর হাসপাতালের তরফে আজ অনেক চেষ্টার পর পার্শ্ববর্তী জেলা পুরুলিয়ার সরকারী মানসিক হাসপাতালে ( পুরুলিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল কেয়ার) মাকে রেফার করে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর শিশুটি সুস্থ রয়েছে এবং পরবর্তীতে সি.ডব্লিউ.সি ( চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি) এর হাতে হস্তান্তর করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে আসানসোল জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ড: নিখিল চন্দ্র দাস ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট মমতাজ চৌধুরীকে বেঙ্গল মিররের তরফে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ওই অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাকে রেল পুলিশ উদ্ধারের পর জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে দেখা যায় ওই রোগী মানসিক রোগে আক্রান্ত। তাকে মেটারনিটি ওয়ার্ডে রাখা হয় যতক্ষণ না তিনি পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছেন। এতদিন তার চিকিৎসা চলছিল। পাশপাশি যেহেতু জেলা হাসপাতালে সাইকিয়াট্রিক ওয়ার্ড নেই তাকে যাতে আরো ভালো চিকিৎসার জন্য ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে পার্শ্ববর্তী জেলার পুরুলিয়ার মানসিক হাসপাতাল পুরুলিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল কেয়ারে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই ব্যাপারে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিএমওএইচ অর্থাৎ মুখ্য সাস্থ্য আধিকারিক ড: মহম্মদ ইউনুস খান কে জানানো হলে তিনি পুরুলিয়ার সিএমওএইচ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুরুলিয়ার মানসিক হাসপাতালের অধিকর্তার সাহায্য নিয়ে আজ ভর্তি করানো গেল। মানবিক দিক থেকে এই সফলভাবে রেফার করিয়ে ওই রোগীকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানোর পর স্বভাবতই সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। এদিকে শিশুটি বর্তমানে এসএনসিইউ ওয়ার্ডে রয়েছে।
পরবর্তীতে ওই শিশুটিকে সি.ডব্লিউ.সি ( চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি) এর হাতে হস্তান্তর করার চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

