কোটি টাকা লুটকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পুলিশের , ২ বছরের মাথায় গ্রেফতার সালানপুরের পৃথ্বীরাজ
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* শেষপর্যন্ত আর শেষ রক্ষা হলোনা পৃথ্বীরাজ ওসওয়ালের। প্রায় দুই বছর ধরে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেফতার হল ১ কোটি ১ লক্ষ টাকা লুটকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের সালানপুরের রূপনারায়ণপুর পিঠাকিয়ারির বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ ওসওয়াল। এই সাফল্য পেয়েছে রাজ্য পুলিশেী সিআইডি। তাকে গ্রেফতার করে ১১ মার্চ দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়৷ আদালতের বিচারক তার জামিন নাকচ করে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন। যদিও পৃথ্বীরাজ ধরা পড়লেও আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনায় অভিযুক্ত আরও কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছে।














উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই দুঃসাহসিক লুটকাণ্ডটি ঘটেছিলো। ঐদিন দিল্লির লাজপত নগরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মুকেশ চাওলার গাড়ি আটকানো হয় দুর্গাপুর থানা এলাকার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পিয়ালা কালীমন্দিরের কাছে। বিকেল প্রায় ৪টা ৩৫ মিনিট নাগাদ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ১ কোটি ১ লক্ষ টাকা লুট করা হয়। জানা যায়, রূপনারায়ণপুর থেকে কলকাতায় বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন মুকেশ চাওলা। এই ঘটনায় পুলিশের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও উঠে। যা গোটা প্রশাসনকে ব্যাপক অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
ঘটনার পর দুর্গাপুর থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তদন্তে দুর্গাপুর থানার এএসআই অসীম চক্রবর্তীর যোগসূত্র পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় সিআইডি বোম স্কোয়াডের জওয়ান চন্দন চৌধুরী এবং পুলিশের ডিআইবি বিভাগের বরখাস্ত হওয়া অফিসার মৃত্যুঞ্জয় সরকারকে।এর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয় দুর্গাপুরের বাসিন্দা সুরজ কুমার রাম ও সুভাষ শর্মা, সালানপুর থানা এলাকার রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন জোড়বাড়ির বাসিন্দা রাজু দত্ত, মহাবীর কলোনির গৌতম চট্টোপাধ্যায় , আছড়ার বাসিন্দা অগাস্টিন মেসি, উত্তরপ্রদেশের মনোজ কুমার সিং, গোরক্ষপুরের অজয় যাদব, পূর্ব মেদিনীপুরের মধুসূদন বাগ এবং রাঁচির বাসিন্দা অঙ্কিত সিংকে।
এছাড়াও পৃথ্বীরাজের বাবা রামনারায়ণ ওসওয়াল সহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।তবে এই আলোড়ন ফেলে দেওয়া ঘটনার মূল অভিযুক্ত পৃথ্বীরাজ ওসওয়াল এতদিন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিল। অভিযোগ, সে ভারত ছেড়ে নেপালেও আত্মগোপন করেছিল। পুলিশ একাধিকবার তার বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তার স্ত্রীকে গ্রেফতারও করা হয়। কিন্তু তারপরও সে পুলিশের সামনে আত্মসমর্পণ করেনি।পরবর্তী কালে এই মামলার তদন্ত সিআইডির হাতে গেলে পৃথ্বীরাজের উপর চাপ বাড়তে থাকে। রাঁচি সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সে আত্মগোপন করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল বলে জানা যায়। একাধিক গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সিআইডি বিভিন্ন জায়গায় হানা দিলে শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে প্রায় ২৩ মাস পরে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করে পৃথ্বীরাজ।এর আগে গ্রেফতার এড়াতে সে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিল। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতে আত্মসমর্পণের পর তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে সিআইডির আবেদনের ভিত্তিতে জেলের ভেতরেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তার ‘শোন অ্যারেস্ট’ র আবেদনও আদালতেরবিচারক মঞ্জুর করেন। এরপর ১১ মার্চ তাকে আবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন বিচারক ।যদিও পৃথ্বীরাজ গ্রেফতার হয়েছে, তবুও এই লুটকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজন এখনও পলাতক থাকায় পুলিশ ও সিআইডির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।এদিকে রূপনারায়ণপুর এলাকায় পৃথ্বীরাজের একাধিক সম্পত্তি আগেই পুলিশের নজরে আসে এবং তার বেশ কিছু ব্যবসা বন্ধও করে দেওয়া হয়। পিঠাকিয়ারিতে তার বিশাল বাড়ি ক্রোক করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এত কিছুর পরেও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়ায় কোটি টাকা লুটকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল বলে মনে করছে পুলিশ আধিকারিকদের একাংশ।

