পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয় বিধানসভায় ভোট পড়লো ৯০ শতাংশেরও বেশি
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বুথে বুথে লম্বা লাইন
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* এখনো পর্যন্ত হওয়া সব নির্বাচনের ভোট পড়ার পুরনো রেকর্ড ভেঙে, ভোট পড়ার ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার সর্বকালীন রেকর্ড হলো৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভোট পড়েছে ৯০.১৬ শতাংশ। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রথম দফায় হওয়া আরো ১৫ টি জেলার সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এই রেকর্ড সংখ্যায় ভোট পড়লো।














রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা নির্বাচনী দপ্তর সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। সন্ধ্যে ছটা পর্যন্ত ভোট হওয়ার কথা। সেই মতো পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি বিধানসভায় ২৫৮৮ টি বুথের মধ্যে বেশিরভাগ বুথে ভোট শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। কয়েকটি বুথে ছটার পরেও ভোটারদের লাইন ছিলো। সেই কারণে মনে করা হচ্ছে, সন্ধ্যে ছটার পরে যে শতাংশ পাওয়া গেছে, তার সামান্য রকমফের হতে পারে।
এদিন সন্ধ্যে পাঁচটা পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভোট পড়েছিলো ৮৬.৯৭ শতাংশ।ভোট শতাংশের হিসেবে জেলার পান্ডবেশ্বর বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। এখানে ভোট শতাংশের হার প্রায় ৮৯ শতাংশের মতো। সবচেয়ে কম আসানসোল উত্তর বিধানসভায় ভোট পড়েছে। এখানে ভোট পড়ার হার সাড়ে ৮৪ শতাংশের বেশী। সকাল সাতটা থেকে ভোট শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট সময় ছিলো। কিন্তু তার প্রায় আধঘন্টা আগে থেকেই বুথে বুথে ভোটার লাইন পড়ে যায়। তারপর যত সময় গড়িয়েছে, একদিকে ততো গরম বেড়েছে, অন্যদিকে, ভোটারদের লম্বা লাইন পড়েছে বুথে বুথে। জেলার নয়টি বিধানসভার শহর থেকে গ্রামে ছিলো একই ছবি। ভোট শুরুর পরে প্রতি দু’ঘন্টায় জেলার নয়টি বিধানসভায় গড়ে ২০ শতাংশ হারে ভোট পড়েছে। দুপুরের দিকে গড়ে ভোট পড়ার হার সামান্য কমে যায়।
বলতে গেলে, এদিনের ভোটে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বড় কোন ঘটনা ঘটেনি। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে পশ্চিম বর্ধমানে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। একমাত্র আসানসোল উত্তর বিধানসভার বার্নপুরের রহমতনগরে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তাতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙ্গে গেলেও, কেউ জখম হননি। গোটা বিষয়টি জানিয়ে হিরাপুর থানায় বিজেপি প্রার্থী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে, কিছু বুথে সকাল থেকে খুব স্লো পোলিং বা আস্তে ভোট হচ্ছিলো। যা নিয়ে, সাধারণ পর্যবেক্ষক ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তারপরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। একইভাবে, বেশ কয়েকটি বুথের কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে রাজ্য পুলিশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো পুলিশ পর্যবেক্ষক সেই বুথে যান ও অভিযোগ খতিয়ে দেখেন। দুর্গাপুরের একটি বুথের ইভিএম মেশিন খারাপ হয়ে যায়। যে কারণে ভোট শুরু হতে সামান্য দেরী হয়।

