দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকে আতঙ্ক ! ভরদুপুরে গৃহস্থর বাড়ির চালে ও দরজায়
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কি কাটেনি কুসংস্কারের অন্ধকার? পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ফরিদপুর ব্লকের পিওর শ্যামলা এলাকায় বুধবার দুপুরে যা দেখা গেল, তাতে এমন প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে।বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগেও অন্ধবিশ্বাসের থাবা যে কতটা গভীর হতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ মিললো বুধবার দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের পিওর শ্যামলা এলাকায়। এদিন দুপুর ১টা নাগাদ এক দম্পতির বাড়ির চালে এবং দরজায় রহস্যময় কিছু সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একে ‘কালা জাদু’ বা ‘তুকতাক’ বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিয়ে ধন্দে এলাকার মানুষজনেরা।














জানা গেছে, এদিন দুপুরে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গোগলা অঞ্চলের পিওর শ্যামলার বাসিন্দা শেখ জামিরুদ্দিনের বাড়ির টালির চালের উপরে বেশ কিছু অদ্ভুত জিনিস নজরে আসে। পরিবারের লোকজন জানান, চালের উপরে সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে নাম লেখা, আলতা, সিঁদুর,মালা কানের দুল, কাঁচা লেবু এবং অসংখ্য সুঁচ গাঁথা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।বাড়ির গৃহবধূ সালমা বিবি বলেন, দুপুর একটা নাগাদ দরজার সামনে এবং টালির চালে উপরে এই জিনিসগুলো দেখতে পাই। সাদা কাগজে আমার স্বামীর নাম ‘জামিরুদ্দিন’ এবং তাঁর বাবার নাম লেখা ছিল।

তাতে রক্ত এবং আলতা মাখানো ছিল আর প্রচুর সুঁচ গাঁথা ছিল। এটা দেখে আমরা অত্যন্ত আতঙ্কিত। আমাদের ক্ষতি করার জন্যই কেউ এই কাজ করেছে বলে দাবি তার। স্বাভাবিক ভাবেই এই খবর জানাজানি হতেই শেখ জামিরুদ্দিনের বাড়ির সামনে ভিড় জমান গ্রামের প্রতিবেশী ও উৎসাহী মানুষ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেখ জামিরুদ্দিন বলেন, আমি কাজের সূত্রে সকাল থেকে বাড়ির বাইরে ছিলাম। দুপুরে ফিরে এসে দেখি বাড়ির সামনে মানুষের ঢল। সবার চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ।
দেখি কাগজে আমার নাম লিখে সুঁচ গেঁথে রাখা হয়েছে। আমি জানি না কে বা কারা আমার ওপর এমন আক্রোশ মেটালো। আমি চাই এই কুসংস্কারের হাত থেকে মুক্তি এবং ভবিষ্যতে যেন আর কারও সঙ্গে এমন না হয়।গোটা ঘটনাটি নিয়ে গ্রামে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কে বা কারা এই অশুভ কাজের পেছনে রয়েছে, তা নিয়ে চলছে কানাঘুষো। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এই ধরনের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত শেখ জামিরুদ্দিন, তার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীরা।

