প্রেমিকার পরিবারের মানসিক চাপ ! সালানপুরে আত্মঘাতী যুবক, শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও, গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* প্রেমিকার পরিবারের লাগাতার মানসিক অত্যাচার ও চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক যুবক। মৃত যুবকের নাম বিক্রম বাউরি (২৩ )। সে আসানসোলের সালানপুরের ক্ষুদিকা গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার গভীর রাতে সালানপুরের পঞ্চানন আশ্রমের কাছে একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। মৃত যুবকের ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা যুবকের মৃতদেহ নিয়ে দুপুরের পরে সালানপুর থানার সামনে রেখে তুমুল বিক্ষোভ দেখান।পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’মাস আগে সালানপুরের ক্ষুদিকা গ্রামের বাসিন্দা বিক্রম বাউরি নিয়ামতপুরের এক ১৭ বছর বয়সী নাবালিকার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কের কারনে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।














এরপর তাঁরা বিয়ে করে। কিন্তু মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিক্রমকে গ্রেফতার করে। তার জেল হয়।সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পায় বিক্রম। জেল থেকে বেরনোর পর থেকেই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টির একটি সুষ্ঠু মীমাংসা করার জন্য মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করছিলেন। বিক্রমের বাবা কালিচরণ বাউরি ও পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটির বাড়ির লোকজন এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিক্রমের ওপর মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য লাগাতার চাপ সৃষ্টি করছিল। একই সঙ্গে চলছিল তীব্র মানসিক নির্যাতন।
এই চরম মানসিক প্রতারণা ও চাপ সহ্য করতে না পেরেই শুক্রবার রাতে পঞ্চানন আশ্রমের কাছে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় বিক্রম। পরে এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার কথা জানতে পারেন। আরো জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ঘটনা ঘটানোর কিছু সময় আগে বিক্রম তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করেছিলেন। ফোনে সে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রেমিকার পরিবারের তরফ থেকে আসা তীব্র চাপ ও হুমকির কথা বন্ধুকে জানায়। বিক্রম তাঁর বন্ধুর কাছে সাহায্যও চেয়েছিল।মৃতের পরিবারের দাবি, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই মেয়ের বাড়ির লোকেরা বিক্রমকে ব্ল্যাকমেইল করছিল এবং মোটা টাকা দাবি করছিল।
এই মানসিক চাপ বিক্রম নিতে পারেনি। যারা আমাদের ছেলেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই ছাড়ব না বলে তারা জানিয়েছেন। শনিবার সকালে বিক্রমের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুদিকা গ্রামের শয়ে শয়ে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে বিক্রমের মৃতদেহ নিয়ে সরাসরি সালানপুর থানার সামনে হাজির হন। তারা দেহ থানার সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে চলে স্লোগান।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ আশ্বাস দেয় যে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং যুবকের মৃত্যুর পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মৃত পরিবারের সদস্যরা একটাই দাবিতে অটল থাকেন, যে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। পুলিশের এক আধিকারিক এই ঘটনা নিয়ে বলেন, যুবকের পরিবারকে গোটা বিষয় নিয়ে একটা অভিযোগ দায়ের করতে হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হবে। আপাততঃ মৃত্যুর ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাতটায় এই খবর লেখা পর্যন্ত মৃতদেহ থানার সামনে রেখেই চলছে বিক্ষোভ চলছে বলে জানা গেছে।

