গোডাউন থেকে উদ্ধার ত্রাণ সামগ্রী প্রাক্তন বিধায়ককে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ দলেরই একাংশের, তোলপাড় পাণ্ডবেশ্বরে
*বেঙ্গল মিরর,পান্ডবেশ্বর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বাংলা জুড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, তোলাবাজি ও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগ সামনে আসছে। বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতারও হয়েছেন শাসক দলের বহু ছোট-বড় নেতা। আর এবার বিস্ফোরক অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা পশ্চিম বর্ধমানের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।শুক্রবার পাণ্ডবেশ্বরের সুভাষ কলোনি এলাকায় প্রাক্তন বিধায়কের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণে গরীব মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সামগ্রী ও হাজার হাজার ত্রিপল।













শুধু তাই নয়, গোডাউনের পাশেই থাকা একটি বিলাসবহুল শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার হয় আপত্তিকর জিনিসও। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।এরপরই একসময়ের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের বর্তমান পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুজিত মুখোপাধ্যায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি প্রাক্তন বিধায়ককে “চরিত্রহীন” বলে কটাক্ষ করেন। তিনি সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে দাবি জানান, অবিলম্বে এমন “দুশ্চরিত্র ব্যক্তিকে” দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।অন্যদিকে, পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ছোরা পঞ্চায়েতের বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য শেখ জুম্মানও মুখ খুলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ছোরা পঞ্চায়েত থেকে গরীব মানুষের জন্য বরাদ্দ বহু ত্রিপল চুরি হয়েছিল। সেই সময় মৌখিকভাবে পুলিশকে জানানো হলেও বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।শেখ জুম্মানের দাবি, শুক্রবার টিভির পর্দায় যখন দেখলাম প্রাক্তন বিধায়কের গোডাউন থেকে হাজার হাজার ত্রিপল ও ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, তখনই সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পুলিশের কাছে আবেদন, আমাদের পঞ্চায়েত থেকে চুরি যাওয়া ত্রিপলেরও তদন্ত হোক।এই ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, ছোরা পঞ্চায়েত থেকে দীর্ঘদিন ধরে গরিবদের ত্রাণ সামগ্রী চুরি করে তা প্রাক্তন বিধায়কের গোডাউনে মজুত করা হত পাচারের উদ্দেশ্যে।
তার অভিযোগের তীর ছোড়া পঞ্চায়েত প্রধান চরিত্র পাসোয়ান, তৃণমূল নেতা ইন্দ্রদেব পাসোয়ান এবং যুবনেতা নিতাই মন্ডলের দিকেও।বর্তমানে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে উঠেছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।এই দুই নেতার বক্তব্য ও অভিযোগ নিয়ে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। তবে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।


