ভারতীয় ইস্পাত শিল্পের পথিকৃৎকে সম্মান বার্নপুরে স্যার বীরেন মুখার্জীর মূর্তি উন্মোচন ও স্কোয়ারের নামকরণ
*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ভারতীয় ইস্পাত শিল্পের এক মহান পথিকৃৎ এবং যিনি ৬০র দশকে ইস্কো (ইন্ডিয়ান আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি)-কে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই স্যার বীরেন মুখার্জীকে শ্রদ্ধা জানালো সেল বা স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া। বার্নপুর সেল আইএসপি বা ইস্কো কারখানা ও ডিএসপি বা দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ডিআইসি বা ডিরেক্টর ইনচার্জ সুরজিৎ মিশ্র ২২ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় বার্নপুরের সেল ইস্কো ইস্পাত কারখানার ফ্লাইওভারের সামনের মোড়ে এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে স্যার বীরেন মুখার্জীর একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি উন্মোচন করেন।এই অনুষ্ঠানে কারখানার ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। এই উপলক্ষে, শ্রী মিশ্র মূর্তির স্থানের নিকটবর্তী চত্বরটির আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ করেন।














তার একটি ফলকও উন্মোচন করেন তিনি। ঐ চত্বরের নাম দেওয়া হয় “স্যার বীরেন মুখার্জী স্কোয়ার “।স্যার বীরেন মুখার্জিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সুরজিৎ মিশ্র বলেন , এমন একজন দূরদর্শী শিল্পপতির মূর্তি উন্মোচন করা তাঁর জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়। তিনি বলেন , বার্নপুর এবং ভারতীয় ইস্পাত শিল্পের উন্নয়নে স্যার বীরেন মুখার্জির অবদান অতুলনীয় এবং এই সম্মান তাঁর আরো আগেই পাওয়া উচিত ছিল।স্যার বীরেন মুখার্জিকে বার্নপুর ইস্কো কারখানার অভূতপূর্ব অগ্রগতির মূল স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যা পরবর্তীকালে সেল বা স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের অধীনে বর্তমান ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টে রূপান্তরিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে বার্নপুর পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্প শহর হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং ইস্পাত উৎপাদনের উৎকর্ষতার প্রতীক হয়ে উঠে।একজন প্রখ্যাত শিল্পপতি এবং জাতীয়তাবাদী উদ্যোক্তা হিসেবে স্যার বীরেন মুখার্জি স্বাধীনতা-পূর্ব ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতে দেশীয় ইস্পাত শিল্পকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি দেশের অসংখ্য শিল্প ও প্রকৌশল প্রকল্পে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর দূরদৃষ্টি, প্রতিষ্ঠান-গড়ার ক্ষমতা এবং শিল্পে আত্মনির্ভরশীলতার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য ব্যাপকভাবে সম্মানিত ছিলেন।
স্যার বীরেন মুখার্জীর ঐতিহ্যের প্রতি বার্নপুরের মানুষের গভীর আবেগপূর্ণ সংযোগের প্রতিফলন ঘটিয়ে, বহু নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে শহরটির নাম পরিবর্তন করে ‘বীরেনপুর’ রাখার দাবি করে আসছিলেন।এদিনের এই অনুষ্ঠানটি কেবল একজন মহান শিল্পপতিকে শ্রদ্ধা জানানোর উপলক্ষই ছিল না। বরং এটি বার্নপুরের শিল্প ঐতিহ্য এবং গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেও প্রমাণিত হয়েছে ডিআইসি জানিয়েছেন।

