পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতে কু্লটির বিজেপি বিধায়ক, জল সমস্যা সহ নানা বিষয়ে আলোচনা
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল ও কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি বিধানসভার দু’বারের বিধায়ক ডাঃ অজয় কুমার পোদ্দার পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম সাথে এক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করেন ও উন্নয়নমূলক বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকটি সম্পূর্ণ ইতিবাচক, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির উপর কেন্দ্র করে হয়। বৈঠকে কুলটি বিধানসভা এলাকার একাধিক জ্বলন্ত সমস্যাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়।একাধিক জনমুখী দাবি ও জরাজীর্ণ রাস্তা সংস্কারের আর্জি জানানো হয়েছে বিধায়কের তরফে।আলোচনাকালে বিধায়ক বরাকর থেকে ডিসেরগড় যাওয়ার জরাজীর্ণ সড়কটির বেহাল দশার কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে সেটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের দাবি জানানএর











পাশাপাশি তিনি সিদ্ধেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার (নিকাশি নালা) সাফাইয়ের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারণ, বর্ষা আসন্ন এবং নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক না থাকলে জলমগ্ন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।এছাড়াও, নিয়ামতপুরের কুমারডিহা হেলথ সেন্টারের (স্বাস্থ্য কেন্দ্র) সীমানা প্রাচীর ভেঙে যেভাবে অবৈধ জবরদখল চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে বিধায়ক কড়া অবস্থান নেন এবং প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানান। একই সাথে, নিয়ামতপুর থেকে ডিসেরগড় রোড পর্যন্ত রাস্তায় গত দেড় বছর ধরে উড়তে থাকা ধুলোবালির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের যে ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তা উল্লেখ করে সড়ক নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
জেলাশাসক বিধায়কের বলা সমস্ত সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা করবেন।এই প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন , রাজ্যে পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ বিজেপি ওপর দু’হাত উজাড় করে ভরসা দেখিয়েছেন। আর এখন সরকারও সময়ের অপচয় না করে জনগণের স্বার্থে সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের নীতিতে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার গঠনের পর এখনও এক মাসও পূর্ণ হয়নি। তা সত্ত্বেও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে শুরু হয়ে গেছে এবং কুলটি বিধানসভা এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে।



তিনি আরও বলেন , কুলটির মানুষ যে বিশ্বাস ও আশীর্বাদ নিয়ে তাঁকে সমর্থন করেছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাঁর ওপর রাখা ভরসাকে মজবুত করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের কর্মীরা মানুষের পাশে থেকে সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত রয়েছেন। আগামী দিনে আসানসোল পুরনিগম বা কুলটি পুরসভা হোক বিজেপির তৃণমূল স্তরের কর্মীরাই নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাবেন।
আগের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের দুর্নীতিকে নিশানা করে তিনি বলেন , বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতি, কাটমানি, লুটতরাজ এবং সাধারণ মানুষকে অবহেলা করার রাজনীতি উন্নয়নের চাকা স্তব্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন মানুষ পরিবর্তন চান এবং বিজেপির সরকার স্বচ্ছতা, উন্নয়ন ও জনসেবার সংকল্প নিয়ে কাজ করে চলেছে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন , কুলটি বিধানসভার প্রতিটি ছোট-বড় সমস্যার সমাধান একদম বুথ স্তর থেকে করা হবে। একইসাথে, এই অঞ্চলকে উন্নয়নের এক নতুন দিশা দেখানো হবে।

