একাধিক দাবি তুলে ধরবে বনিকসভা ৬ জুন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সহ পশ্চিম বর্ধমানের ৯ বিধায়ককে সম্বর্ধনা ফসবেকি’র
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* দক্ষিণবঙ্গের বৃহত্তম বাণিজ্যিক সংগঠন ফসবেকি বা ফেডারেশন অফ সাউথ বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তরফে রবিবার আসানসোলের জিটি রোডের পুরনো রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মোড় এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে ফসবেকির সভাপতি শচীন রায়, আসানসোল মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হিরেন ব্যাস, সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি তথা উপদেষ্টা সৌমেন চট্টোপাধ্যায় , উখড়া চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মনোজ সরাফ, ফসবেকির প্রাক্তন সভাপতি তথা পৃষ্ঠপোষক রাজেন্দ্র প্রসাদ খেতান, ফসবেকির সচিব সন্দীপ ঝুনঝুনওয়ালা এবং আসানসোল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি গৌরীশঙ্কর আগরওয়াল উপস্থিত ছিলেন।














সাংবাদিক সম্মেলনে ফসবেকির সভাপতি শচীন রায় বলেন , বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বিজেপি নয়টি আসনেই জয়লাভ করে ক্লিন সুইপ করেছে। আগামী ৬ জুন সকাল ১১টায় আসানসোল ক্লাবে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে ফসবেকি পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে জয়ী বিজেপির নয়জন বিধায়ককেই সম্মানিত করবে। শচীনবাবু বলেন , পশ্চিম বর্ধমান জেলা এই সরকারে অগ্নিমিত্রা পাল মন্ত্রী পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। মুখ্যমন্ত্রীর পরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী । ফসবেকি”র ১১টি জেলার প্রতিনিধিরা সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
সংগঠনের তরফে মন্ত্রী এবং সমস্ত বিধায়কদের কাছে জেলার কিছু মৌলিক সমস্যা সমাধানের জন্য অনুরোধ করা হবে। এই জেলায় প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শিল্প ও উন্নয়নে বাধা হয়েছে। ৬ জুন বিজেপি বিধায়কদের কাছে যে দাবিগুলো পেশ করা হবে। সে বিষয়ে একটি স্মারকলিপি তৈরি করা হচ্ছে। শচীন রায় বলেন, এই দাবিগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জমি আইন বাতিলের দাবি। ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে বর্তমান বিজেপি সরকার বাংলায় জমি আইন বাতিলের কথা ভাবছে। সেই কাজও শুরু হয়ে গেছে। যদি এমনটা হয় তবে তা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হবে।
কারণ জমির কারণে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি বাংলায় শিল্প ও কারখানা স্থাপন করতে পিছিয়ে যায়। শচীন রায় বলেন , আগেও সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এই দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এদিকে, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বিশেষ করে আসানসোল এলাকায় অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এই কারখানাগুলি পুনরায় খোলার অনুরোধ করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কারখানাগুলিতে ছোট ও মাঝারি শিল্প স্থাপন করা উচিত। এমএসএমই খাতে পশ্চিমবঙ্গ দেশে এখন এক নম্বরে রয়েছে। তাই, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত।
কারখানাগুলির আশেপাশের জমিতে ছোট শিল্প স্থাপন করলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শচীন রায় বলেন , এখন সবচেয়ে বড় হলো আসানসোলের যানজটের সমস্যা। আসানসোলে এই যানজটের সমস্যার কারণে শিল্পোন্নোয়ন ঠিকমতো এগোচ্ছে না। তাই, একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। জিটি রোডের ওপর একটি ফ্লাইওভার হলে যান চলাচলের অসুবিধা কমবে এবং আসানসোল যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। তাই, তিনি নতুন সরকার এবং এই জেলার সমস্ত বিজেপি বিধায়কদের এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।
শচীন রায় এদিন দামোদর নদীর ওপর একটি সেতু তৈরির প্রসঙ্গ আবারও তোলেন। তিনি বলেন, এটি কোনো নতুন দাবি নয়। এর আগেও এমন দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার এই দাবি তোলা হয়েছে। যা এই জেলার সঙ্গে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মধ্যে সহজ সংযোগ স্থাপন করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের যাতায়াতের উন্নতি ঘটাবে। শচীন রায় আসানসোল ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির দিকেও রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেন , এর ফলে এই অঞ্চলের যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।বাংলা
, বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা, একটি বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হচ্ছে। এখানকার যুবকেরা তাদের বয়স্ক বাবা-মাকে একা রেখে পড়াশোনা ও চাকরির জন্য বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। যুবকেরা যদি এখানেই পড়াশোনা ও চাকরির সুযোগ পেতে শুরু করে, তাহলে তাদের আর বাইরে যেতে হবে না। তিনি বার্নপুর বিমানবন্দর খোলারও দাবি জানান। শচীন রায় বলেন, এই বিমানবন্দর চালু হলে বিমান চলাচল খাতে একটি নতুন বিপ্লব আসবে। যা শুধু পশ্চিম বর্ধমান জেলা নয়, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকেও উপকৃত করবে।
অন্যদিকে, এদিন সংগঠনের তরফে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে আরও কয়েকটি শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবিও জানানো হয়। সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা ও অন্য বনিকসভার সদস্যরা সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের বক্তব্য রাখেন। তাঁরা সর্বসম্মতভাবে বলেন, আমরা চাই নতুন সরকার আসানসোল এবং বাংলার শিল্পোন্নয়নের উপর মনোযোগ দিক। গত ৫০ বছরে বাংলার কোনো ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গেই কেন্দ্রীয় সরকারের সুসম্পর্ক ছিল না। অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের একটি পালা চলে এসেছে। যার ফলে বাংলার উন্নয়ন পিছিয়ে পড়েছে।
তাই, এখন যেহেতু বাংলায় একটি ডাবল-ইঞ্জিন সরকার গঠিত হয়েছে, এই সুযোগটি কাজে লাগানো এবং বাংলার যুবকদের জন্য এমন কিছু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা তাদের ভবিষ্যৎ উন্নত করবে। ফসবেকির তরফে সর্বসম্মতভাবে জানানো হয় যে, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান এবং বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজেপি সরকার যে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিক না কেন, তাঁদের সংগঠন সরকারের পাশে আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ এবং সরকার যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

