আসানসোলের চিটফান্ড কাণ্ডে সরব বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের বহুচর্চিত চিটফান্ড ও আর্থিক প্রতারণা কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে একটা সময় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিলো। এবার সেই কান্ডের তদন্ত করা নিয়ে সরব হলো বিজেপি। বিজেপির আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের মুখপাত্র ও মিডিয়া ইনচার্জ দুর্গেশ নাগী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এই কান্ড নিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে একটি চিঠি দিয়ে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।বিজেপি নেতার লেখা চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে আসানসোল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে তোলা হয়েছে।













অভিযোগ, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত তাহসিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন জেলা সহ-সভাপতির ছেলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে আরো দাবি করা হয়েছে যে, এই অভিযুক্তের সঙ্গে বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আসানসোলের অনেক বড় মাপের নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো।দুর্গেশ নাগীর আরো অভিযোগ, তাহসিন আহমেদ তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের নিয়ে প্রায় ৩ হাজারের বেশি মানুষের কাছ থেকে আনুমানিক ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন।
বিনিয়োগকারীদের প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের রিটার্ন এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে মূল টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, কোনও বৈধ সরকারি অনুমোদন বা আর্থিক লাইসেন্স ছাড়াই এই পুরো ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত প্রায় এক বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে, সম্পত্তি বিক্রি করে বা আজীবনের সঞ্চয় এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ।বিজেপি নেতার দাবি, এই গোটা চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুরক্ষা পেয়েছিল বলে এলাকায় চর্চা রয়েছে।
তবে তিনি এও বলেছেন যে, যাঁদের নাম জনসমক্ষে ঘুরছে তাঁদের ভূমিকারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। যাতে কোনও নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।দুর্গেশ নাগী তার চিঠিতে সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং আয়কর দফতরের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের দাবিও তুলেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের স্থাবর-অস্থাবর ও বেনামি সম্পত্তির তদন্ত ও প্রয়োজনে বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও করা হয়েছে বিজেপি নেতার চিঠিতে। এই বিষয়ে যাদের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এই ঘটনা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যান দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও সরব হয়েছিলেন।উল্লেখ্য, এই ঘটনায় আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ একজনকে মাত্র গ্রেফতার করেছিলো।


