আসানসোল পুরনিগমের সেন্ট্রাল স্টোরে ‘কোটি টাকার সরঞ্জাম নষ্ট’, দুর্নীতির তদন্তের ইঙ্গিত পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের চাইলেন রিপোর্ট
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের ১৯ নং জাতীয় সড়কের কালিপাহাড়িতে আসানসোল পুরনিগমের কেন্দ্রীয় বা সেন্ট্রাল স্টোরে শুক্রবার সকালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে সরকারি সম্পদের ব্যাপক অপচয় ও সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন সকালে স্টোর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা বিভিন্ন আধুনিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম ও যানবাহন বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার না হয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।













এই নিয়ে তিনি স্টোরের দায়িত্বে থাকা পুর আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। কেন এইসব জিনিস এখানে রাখা রয়েছে, তা নিয়েও পুর আধিকারিকের কাছে জানতে চান। পরে মন্ত্রী বলেন, ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের অধীনে কেনা রাস্তা পরিষ্কারের স্প্রিংক্লার গাড়ি, আধুনিক বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি, সাইকেল ভ্যান, হাজার হাজার ডাস্টবিন সহ একাধিক সামগ্রী ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এমনকি বহু নতুন গাড়ির এখনও পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন বা নম্বর প্লেটও লাগানো হয়নি।স্টোরে উপস্থিত আধিকারিকরা বিএস-৩ ইঞ্জিন সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করলে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম মজুত থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার নতুন করে টেন্ডার ডেকে এইসব সামগ্রী কেনা হয়েছে?
কেন সেগুলি ব্যবহার করা হয়নি ?আসানসোল পুরনিগমের সাফাইকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, স্টোরে প্রায় ২ হাজার জোড়া গামবুট ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী মজুত থাকলেও বাস্তবে বহু সাফাইকর্মীকে কোনও গ্লাভস, জুতো বা বর্ষাতি ছাড়াই নর্দমা ও আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে নামতে হচ্ছে।এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে মন্ত্রী বলেন, সুরক্ষার এই সব সামগ্রী আসল কর্মীদের না দিয়ে কি তৎকালীন কাউন্সিলাররা বর্ষাকালে নিজেরা পরবেন বলে গোডাউনে জমিয়ে রেখে দিয়েছিলেন?সরকারি অর্থের অপচয় ও সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।
পাশাপাশি, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এদিন কালিপাহাড়ি সেন্ট্রাল স্টোরে মজুত সমস্ত সামগ্রীর বিস্তারিত তালিকা এবং সেগুলি কিভাবে দ্রুত জনস্বার্থে ও সাফাইকর্মীদের মধ্যে ব্যবহার বা বিতরণ করা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরকে ।পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর আচমকাই এই পরিদর্শনের পরে আসানসোল পুরনিগমের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


