বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানায় আবারও এমভিআইয়ের ‘লুটরাজ’ ! ২২ লক্ষ টাকার ডিমের কন্টেনার আটকে তোলাবাজির অভিযোগ
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল হলেও বদলায়নি বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার রামপুর এমভিআই বা মোটর্স ভেহিক্যালস দপ্তরের দৌরাত্ম্যের চেনা ছবিটা। রাজ্য জুড়ে ‘ডান্ডা ট্যাক্স’ তুলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ থাকলেও, রামপুর এমভিআই দপ্তরের বিরুদ্ধে আরে একবার জোরপূর্বক ‘ডান্ডা ট্যাক্স’ ও তোলাবাজির মারাত্মক অভিযোগ উঠল। ওভার হাইট বা গাড়ির উচ্চতা বেশি বলে আবার আটকে দেওয়া হচ্ছে কাঁচামাল বাহী যানবাহনও। রীতিমতো দালাল চক্র খাটিয়ে এই অবৈধ সিন্ডিকেট চালানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গাড়ি চালকেরা।শান মহম্মদ নামে এক ট্রাক চালক শুক্রবার বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, পাঞ্জাব থেকে প্রায় ২২ লক্ষ টাকার ডিম বোঝাই করে একটি কন্টেনার ট্রাক কলকাতার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম।














বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায় রামপুর এমভিআই আধিকারিকেরা জোরপূর্বক আমার গাড়িটি আটকে দেয়। চালকের দাবি, গাড়ির সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সীমানায় ‘এন্ট্রি’ বা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় তাঁর গাড়িটিকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এখন গাড়ির অতিরিক্ত উচ্চতার অজুহাত দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হচ্ছে। চালকের আশঙ্কা, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি আটকে রাখায় গরমে ডিম নষ্ট হয়ে গেলে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তিনি। মোবিল নিয়ে আসা কন্টেনার চালক মহঃ ইরফানের অভিযোগ আরও মারাত্মক। তিনি বলেন, বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার ‘মামা হোটেলে রীতিমতো দালালের মাধ্যমে ৫৫০ টাকা ‘এন্ট্রি ফি’ দিয়েছি।
তা সত্ত্বেও রামপুর সীমানায় তাঁর গাড়িটিকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয় অতিরিক্ত ‘ডান্ডা ট্যাক্স’-র জন্য। চালকের প্রশ্ন, সীমানায় টাকা দেওয়ার পরেও কেন আবার গাড়ি আটকানো হলো?এমভিআইয়ের এই জুলুম থেকে বাদ যাচ্ছে না খালি গাড়িও। ধানবাদের বাসিন্দা বাবুরাম গরাই নামে এক গাড়ি চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার গাড়িটি সম্পূর্ণ খালি থাকা সত্ত্বেও ‘পারমিট’ পরীক্ষার নামে গাড়ি আটকে রেখেছে রামপুর এমভিআই। খালি গাড়ির ক্ষেত্রে কিসের পারমিট নিয়ে এত কড়াকড়ি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
চালকদের ক্ষোভ মুখ্যমন্ত্রী ডান্ডা ট্যাক্স বন্ধের নির্দেশ দিলেও রামপুর এমভিআই-এর তোলাবাজি থামেনি। এখানে বৈধ কাগজ দেখালে কাজ হয় না, টাকা দিলে তবেই গাড়ি ছাড়ে। এই লুটরাজ কবে বন্ধ হবে? রামপুর এমভিআই দপ্তরের এই লাগামছাড়া দুর্নীতির জেরে ক্ষোভে ফুসছেন ভিনরাজ্য থেকে আসা চালকেরা। এই দালাল চক্র ও অবৈধ ডান্ডা ট্যাক্স বন্ধে রাজ্য প্রশাসন আদৌ কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।তবে, ট্রাক চালকদের অভিযোগ ও দাবি নিয়ে এমভিআই দপ্তরের আধিকারিকদের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।


