Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Bengal Mirror
ASANSOL

বালি চুরি রুখে খনি বাঁচান, শ্রম কোড মানব না ” সিটুর ডাকে ইসিএলের এরিয়া অফিস ঘেরাও বিক্ষোভ, ধর্মঘটের ডাক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কয়লা খনি শ্রমিকদের বেতন চুক্তি কার্যকর করা, বালি চুরি বন্ধ এবং খনি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আসানসোলের সোদপুরে ইসিএলের এরিয়া অফিসে বিক্ষোভ সভা করলো সিটু ও সিএমএসআই। মঙ্গলবারের এই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় । ইসিএলের মোট ১৪টি এরিয়ার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬টি এরিয়াতে এই বিক্ষোভ সভা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে এই একই দাবিতে ৫২টি কোলিয়ারিতে পিট মিটিং ও ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিটু নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, শ্রমিকদের পাঁচ বছর অন্তর যে বেতন বোর্ড গঠন ও বেতন চুক্তি লাগু হওয়ার কথা, তার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তা করা হয়নি।

এই ন্যায্য দাবিতেই গোটা কয়লা শিল্প অঞ্চল জুড়ে সিটুর নেতৃত্বে ম্যানেজমেন্টের কাছে লাগাতার দাবি পত্র পেশ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কয়লা শিল্পকে বাঁচানো, কয়লা ও বালি চুরি বন্ধ এবং কেন্দ্র সরকারের শ্রম কোড আইনের তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। মীনাক্ষীর অভিযোগ, শ্রম কোড আইনের মাধ্যমে শিল্প ও শ্রমিকদের মেরে ফেলার চক্রান্ত চলছে, যার বিরুদ্ধে তাঁদের এই লড়াই।অন্যদিকে, কর্মসূচির অন্যতম বক্তা তথা সিটু অনুমোদিত সিএমএসআইয়ের জেনারেল সেক্রেটারি মনোজ দত্ত ইসিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে খনি এলাকায় নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হন।

তিনি বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ড মাইন্সে বা ভূগর্ভস্থ খনিতে বালি ভরাটের নিয়ম থাকলেও বালি চুরির কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। বালি ভরাট না হলে খনি এলাকায় ব্যাপক ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। যা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বড়সড় বিঘ্নের মুখে দাঁড় করাবে। এছাড়াও মজদুরদের ‘এনসিডব্লিউ-১২’ বেতন চুক্তি কার্যকরের জন্য অবিলম্বে জেবিসিসিআই কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে কয়লা শ্রমিকরা ১০০ শতাংশ ধর্মঘটের পথে হাঁটবেন।সিটু নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখাও এদিন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

জানানো হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবে ইসিএলের সমস্ত শ্রমিকরা শাঁকতোড়িয়ায় ইসিএলের সদর দপ্তর বা হেডকোয়ার্টারে বৃহত্তম সমাবেশে মিলিত হবেন। এর পরেও সমাধান সূত্র না মিললে রানিগঞ্জ থেকে রাজারহাটে কোল ইন্ডিয়ার সদর দফতর পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রা ও সেখানে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এদিনের সভা থেকে সিটু নেতৃত্ব সর্বস্তরের শ্রমিকদের এই অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *