RANIGANJ-JAMURIA

রানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পিতলের রথের দড়ি টানলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও দুই বিধায়ক

বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ : ঐতিহ্যবাহী ১০৩ বছরের প্রাচীন পিতলের রথের দড়ি টানলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও দুই বিধায়ক। এবারেও এই ঐতিহ্যবাহী পিতলের রথে পুজো দিতে ও রথের দড়ি টানতে হাজারো ভক্ত নতুন রাজবাড়ী থেকে রথ কে নিয়ে গেল পুরনো রাজবাড়িতে, আর এই রথ টানা কে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মত। জানা গেছে রাণীগঞ্জের দীর্ঘ প্রাচীন এই পিতলের রথের মেলা দেখতে, দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষজনের সমাগম ঘটে মেলায়।

এই রথের মেলা প্রসঙ্গে জানা যায়, পিতলের এই রথ এবার ১০৩ তম বছরে পড়ল। প্রাচীনকালে সিয়ারশোল রাজ পরিবারের এই রথ নিয়ে যেসব কথা উঠে আসে, তা অনেকটাই এরকম – ১৯২৫ সালের আগে পর্যন্ত পুরীর জগন্নাথ দেবের রথের আদলে কাঠের রথ টানা হতো, পুরনো রাজবাড়ী থেকে নতুন রাজবাড়ী পর্যন্ত, পরে সেই রথ উৎসব শেষে রাজ পরিবারের একটি হল ঘরে রাখা হত। পরবর্তীতে সিয়ারশোল রাজ পরিবারের সেই রথ, কোন কারণে আগুন লেগে পুড়ে যাওয়ায়, তারপরই সিয়ারসোলের রাজ পরিবারের সদস্য প্রমথনাথ মালিয়া, কলকাতার চিৎপুরের, প্রসাদ চন্দ্র দাস কে দিয়ে পেতলের রথ তৈরি করান। যে রথের চারপাশে রামায়ণ-মহাভারতের বিভিন্ন দেবী, দেবতার, লীলার বিষয়, তথা কৃষ্ণ লীলার, নানান কাহিনী, মূর্তির আদলে তুলে ধরে, তা রথের স্থাপন করা হয়।

তবে এই রথে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার সাথে রথের চূড়ায় অধিষ্ঠিত হন, রাজ পরিবারের কুলদেবতা, দামোদর চন্দ্র জিউ।আগে এই রথ পুরনো রাজবাড়ি থেকে নতুন রাজবাড়ি নিয়ে আসা হলেও, বিগত কয়েক বছর ধরে সুবিশাল এই রথটিকে, নতুন রাজবাড়ী থেকে পুরনো রাজবাড়ী নিয়ে আসার চল শুরু হয়েছে। মূলত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, ও রথের মধ্যে থাকা মূল্যবান মূর্তি যাতে কেউ চুরি করে না নিয়ে যায়, সেই বিষয়টি নজরে রেখে, বছর ভর খোলা আকাশের নিচে নতুন রাজবাড়ীর সামনে, কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয় রথটি। পুরীর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা সময় কাল থেকেই এখানেও এই রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। আর এই রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে বসে মেলা, যেখানে প্রাচীন সময়ের চাষ আবাদের জন্য প্রয়োজনের যে সকল সামগ্রী থাকতো, সে সকল সামগ্রী, প্রতিবছর নিয়ম করে এই রথের মেলায় পসরা নিয়ে হাজির হয়। আর তার সাথে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে, মহিলাদের বিভিন্ন প্রসাধনের ও সাজগোজের সামগ্রী, সহ বিভিন্ন গাছের চারা ও আচারের দোকান নজর কাড়ে এই মেলায়।আর এ সকলের সাথে নাগরদোলা সহ নানাবিধ খাবার দোকানের স্টল, ভোজন রসিকদের আকর্ষিত করে মেলায়। জানা গেছে ১৫ দিন ধরে চলবে এই মেলা।

এবারের এই মেলায় হাজির হয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও অজয় পোদ্দার রাজ্যের বর্তমান সময়ে সনাতনী ধর্মের প্রচার ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে ও মানুষ আজ প্রাণ খুলে সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে l একইসঙ্গে এই পিতলের রথ প্রসঙ্গে গর্ব অনুভব করলেন মন্ত্রীরা।

Social Share or Summarize with AI

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *