বিজেপি প্রার্থীর হোর্ডিং খুলে নেওয়ার অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে, থানায় বিক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ৪ এপ্রিলঃ ফের হোর্ডিং বিতর্ক। আসানসোল পুরনিগমের অনুমতি নিয়ে লাগানো হোর্ডিং খুলে নিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনই অভিযোগে সরব হলেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। রবিবার রাতে তিনি আসানসোল দক্ষিণ থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এই মর্মে গোটা বিষয়টি জানিয়ে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য, আসানসোল পুরনিগমের অনুমতি নিয়ে যে হোর্ডিং লাগানো হয়েছে, তা কিভাবে খুলে নেওয়া যায়? রবিবার হোর্ডিংটি যখন খুলে নেওয়া হচ্ছিল, তখন আমি ঘটনাস্থলে খবর পেয়ে পৌঁছে যাই। হাতেনাতে ধরি অভিযুক্তদের।














জানা গেছে, যে ব্যক্তি হোর্ডিংটি খুলছিলেন, তিনি নিজেকে কোন এক এজেন্সির সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন। ঐ ব্যক্তির বক্তব্য, ঐ হোর্ডিংটি লাগানোর অনুমতি নেই, তাই খোলা হচ্ছিল। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন এজেন্সি, তার কোন পরিচয়পত্র ও প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি। এর পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকেরা সেখানে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
বিজেপি কর্মীরা তখন প্রতিরোধ গড়ে তুললে, তাদেরকে বাঁশ, লাঠি দিয়েও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামলান। পরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার ভেতরে ঢুকে যান। তিনি থানার আইসির সঙ্গে কথা বলে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে থানায় আসে তৃনমুল কংগ্রেসের কর্মীরাও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আসানসোল দক্ষিণ থানা এলাকা চত্বরে।
তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে ৭০ টি হোর্ডিং দেওয়া হয়েছে। পরে ধর্ণা, অবস্থান ও বিক্ষোভের জেরে ২৮ টি হোর্ডিং আমাদেরকে দেওয়া হয়। এবার রাতের অন্ধকারে সেইসব হোর্ডিং খুলে নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার কথা নির্বাচন কমিশন ও পর্যবেক্ষককে অভিযোগ জানিয়েছি।
অগ্নিমিত্রা পাল আরো বলেন, “এমনটা কেন হবে? অনুমতি নিয়েই তো হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল। কিন্তু ওরা সেটুকুও লাগাতে দেবে না। আসলে ওরা ভয় পাচ্ছে। পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছে। এইসব করে কি সুষ্ঠু রাজনীতি ওরা করছে?
বিজেপির এই অভিযোগের গুরুত্ব দিতে চাননি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন তরফে দাসু। তিনি প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, বিজেপির কোন ইস্যু নেই। তাই এইসব ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে প্রচারে আসতে চাইছে। আমরা কাউকে হোর্ডিং খুলতে বলিনি। তিনি বলেন, হোর্ডিং লাগালে যদি ভোট পাওয়া যায়, তাহলে আমরা তো ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোলে অনেক হোর্ডিং লাগিয়েছিলাম। জিততে পারিনি।
এদিকে, আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগের তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

