আসানসোলে শক্তির আরাধনা হারিয়ে যাওয়া ” আলপনা” য় সেজেছে সবুজ সংঘের মন্ডপ অভিনবত্ব প্রতিমায়
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ বাঙালি মানে ” ১২ মাসে ১৩ পার্বন “। আর সেই পার্বন বা পুজো ও উৎসবে ” আলপনা” দেওয়ার একটা পুরনো রীতি ছিলো। বাড়িতে বাড়িতে মা ও কাকিমারা আতপচাল ভিজিয়ে শিলে গুঁড়িয়ে বা বেটে একটা মিশ্রণ তৈরী করতেন। পরে সেই মিশ্রণ কাপড়ের টুকরো লাগিয়ে ঘরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন কারুকার্য সহ আলপনা দিতেন। বিশেষ করে লক্ষীপুজোর দিন ঘরের দরজা থেকে লক্ষী ঠাকুরের পা আলপনা করে তাকে আবাহন করা হতো। সময়ের সঙ্গে ডিজিটাল বা আধুনিকতার ধাক্কায় সেই ” আলপনা ” প্রায় হারিয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে এখনো একটু আধটু হাতে করে দেওয়া সেই আলপনার দেখা পাওয়া গেলেও, শহরের তার খোঁজ মেলেনা। বদলে জায়গা পেয়েছে, নানা ধরনের স্টিকার।
সেই হারিয়ে যাওয়া ” আলপনা ” দিয়েই এই বছরের কালি পুজোর মন্ডপ সাজিয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শহরের আসানসোল গ্রামের নামোপাড়ার ” সবুজ সংঘ “। ৪৬ বছরের পুজোর তাদের ট্যাগ লাইন বা থিম ভাবনা হলো ” নামোপাড়ায় জল্পনা, সবুজ সংঘের আলপনা “। তাদের প্রতিমাতেও রয়েছে অন্য ধরনের এক ভাবনা।














তিন যুগের সংমিশ্রণ করে প্রতিমায় অভিনবত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ত্রেতা যুগে ” শ্রীরাম “, দ্বাপর যুগে ” শ্রীকৃষ্ণ ” ও তারপরে কলিযুগে ” শ্রীরামকৃষ্ণ “। সবুজ সংঘের কালি মূর্তি কোলে নিয়ে বসে আছেন শ্রীরামকৃষ্ণ। তার ডানদিকে তীর-ধনুক তাতে শ্রীরাম ও বাঁদিকে মুখে বাঁশি নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ।
গোটা ভাবনার কারিগরি হলেন শিল্পী পুচন বন্দোপাধ্যায়। তার ভাবনাতেই মূর্তি গড়েছেন আসানসোলের পটুয়াপাড়া বলে পরিচিত মহিশীলা কলোনির মৃৎশিল্পী বাসুদেব রুদ্র পাল।
পুচন বন্দোপাধ্যায় বলেন, হারিয়ে যাওয়া আলপনা দিয়েই আমার মন্ডপ সজ্জা। প্রায় আড়াই মাসের মতো সময় লেগেছে সবকিছু করতে। ব্যবহার করেছি ফোম, পাটকাঠি, পিভিসি পাইপ, দড়ি, ফিতে ও রড। তিনি আরো বলেন, প্রতিমাতেও তিন যুগের একটা যোগসূত্র দেখানো হয়েছে। এই প্রতিমা ও মন্ডপকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের আলো ব্যবহার করা হয়েছে। এই মন্ডপ সজ্জা ও প্রতিমায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
সবুজ সংঘের সম্পাদক আনন্দ দাঁ বলেন, বলতে গেলে প্রতি বছরই নতুন কিছু করার চেষ্টা আমরা করে থাকি। সভাপতি অমিত রায় সহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই থিম ভাবনা আমরা করেছি। আমাদের আশা আসানসোলের মানুষেরা মন্ডপ ও প্রতিমা দেখে নিরাশ হবেন না।

