West Bengal

ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে নজিরবিহীন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট, যেকোনো আক্রান্ত ব্যক্তি রাজ্যে পুলিশের ডিজিকে ইমেলে অভিযোগ জানাতে পারবেন

ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: কলকাতা হাইকোর্ট

বেঙ্গল মিরর, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত: গত বিধানসভার ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা এবং তার শুনানি এখনও বিচারাধীন রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে। আর এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চে উঠলো লোকসভার ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ জানায় -‘ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলে সরাসরি রাজ্যের ডিজিকে ইমেল মারফত অভিযোগ জানাতে পারবেন আক্রান্ত ব্যক্তি। কর্তব্যযোগ্য বা আদালতগ্রাহ্য অপরাধ হলে সঙ্গে সঙ্গে ডিজি স্থানীয় থানাকে উপযুক্ত ধারায় এফআইআর  দায়ের করার নির্দেশ দেবেন। এফআইআর  দায়ের করার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে পুলিশ’।এই নির্দেশ বিচারপতি কৌশিক চন্দের ডিভিশন বেঞ্চের। ‘রাজ্যে কয়টি ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস সংক্রান্ত অভিযোগ এসেছে এবং কয়টি ক্ষেত্রে এফআইআর  দায়ের করেছে পুলিশ?  এবং কী পদক্ষেপ করা হয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট দেবেন রাজ্যের ডিজি’। এই নির্দেশ দিল হাইকোর্ট । পাশাপাশি আদালতের তরফে এই নির্দেশও দেওয়া হয় যে এফআইআর দায়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা রাজ্য পুলিশের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। একইসঙ্গে এফআইআর  হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন পড়লে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পদক্ষেপ করবে। ‘আমরা রাজ্যের সমস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’ এদিন সেটি স্পষ্টভাবে জানায় কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ।  ‘এ রাজ্যের ক্ষেত্রে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস কোন অপরিচিত শব্দ নয়। সরকার যদি রাজ্যবাসীর জীবনরক্ষায় ব্যর্থ হয় তাহলে আদালত উপযুক্ত নির্দেশ দেবে।’ এই মামলায় জানায়  ডিভিশন বেঞ্চ ।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখেছি যে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস চলছে। এটা বন্ধ করতে হবে।’ এদিকে বিচারপতির  এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা রাজ্যের দাবি, -‘রাজ্যে আজ পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু আছে। যে গণ্ডগোলের কথা বলা হচ্ছে সেটা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে নাও হতে পারে’। এর প্রতুত্তরে বিচারপতি বলেন, ‘আগের বিধানসভা ভোটের পর যা হয়েছিল এখনো তাই হচ্ছে। আপনাদের (রাজ্য)লজ্জিত হওয়া উচিত। আপনারা কি অস্বীকার করতে পারবেন যে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস হচ্ছে না?এই রাজ্য ছাড়া আর কোথাও এই অভিযোগ আছে?’ লাগাতার এই প্রশ্নগুলিও করতে থাকেন বিচারপতি ।অভিযোগ, ভোটের সময় থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিন সওয়াল-জবাব চলার সময় মন্তব্যও করতে দেখা যায় মামলাকারীর আইনজীবীকে।

পাল্টা বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় জানতে চান, -”আমরা কী করে জানব যে ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে?” উত্তরে মামলাকারীর আইনজী’বী বলেন, ”আমাদের কাছে সব তথ্য আছে।’এরপরই ফের রাজ্যকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, ‘কোন পদ্ধতিতে এটা আটকানো সম্ভব সেটা আমাদের জানান। এমন একটা পদ্ধতির কথা জানান যাতে মানুষ সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর  দায়ের করতে পারে। স্থানীয় থানায় না গিয়েও মানুষ কিভাবে এফআইআর  দায়ের করতে পারবে সেটা জানান। আমরা চাই না যে ব্যক্তি একবার আক্রান্ত হয়েছেন তিনি থানায় গিয়ে আরও হেনস্থার মুখে পড়েন’। এরপর একজন ব্যক্তিও যদি ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের শিকার হন তাহলে তিনি যাতে এফআইআর  দায়ের করতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’ এই মামলার শুনানি চলাকালীন মন্তব্য করেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। বিচারপতির মন্তব্যের পরেই রাজ্য জানায়, ‘প্রত্যেক থানা, পুলিশ সুপার, ডিজি এবং আইজি-র নিজস্ব ই-মেইল আইডি আছে। কেউ থানায় না গিয়েও অভিযোগ জানাতে পারেন।’ এরপরই অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যকে ডিজির ইমেইল আইডি জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফে। ঠিক ১০ মিনিট পরে রাজ্যের ডিজির ইমেইল আইডি দিয়ে দেন রাজ্যের আইনজীবীরা।

এদিকে এরপরই আবার মাঠে নামতে দেখা যায় কেন্দ্রকে। ‘রাজ্য যদি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সহযোগিতা না করে তাহলে আমরা তথ্য পাব কী করে?’ সেই প্রশ্ন তোলা হয় কেন্দ্রের তরফে। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

মামলাকারী আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম রয়েছেন কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী যিনি গত বিধানসভার সময় থেকেই অসহায় মানুষদের সুবিচার পাইয়ে দিতে দীর্ঘ আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আইনজীবী কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী বলেন, কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, -‘হিংসা আটকাতে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে যৌথ ভাবে কাজ করতে হবে কেন্দ্র এবং রাজ্যকে’। পুলিশ কোনও ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীও হস্তক্ষেপ করতে পারবে বলে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ।

প্রথম ইমেইল আইডি হল: dgpwestbengal@gmail.com
দ্বিতীয় ইমেইল আইডি হল: dgpofficewbconfidential@gmail.com

Leave a Reply