সালানপুর ও বারাবনি বিডিও অফিসে বিএলওদের বিক্ষোভ, অবস্থান
অমানুষিক ও নিত্য দিন কাজের বোঝা চাপাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, অভিযোগ
বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের উপর নিত্য দিন নতুন নতুন কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের উপর অমানুষিক ও অমানবিক কাজের বোঝা চাপানো হচ্ছে। অথচ সেই সব কাজ সম্পর্কে বিএলওদের পরিষ্কার ধারনা নেই বা তাদেরকে সেই কাজ নিয়ে আগাম কোন কিছু দেওয়া হচ্ছে না। এমনই একাধিক অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার বারাবনি ও সালানপুর ব্লকের বিএলওরা বিডিও অফিসে বিক্ষোভ অবস্থানে বসেন। পরে তারা বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাসের কাছে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।














জানা গেছে, সালানপুর ব্লকের ১৪৫ জন বিএলওর অধিকাংশই এদিনের এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। বিএলও পূর্ণচন্দ্র মাজি ও চন্দনা সাহা বলেন, এসআইআরে ইনুমেরেশন ফর্ম কালেকশান করে ডিজিটাইজেশনের কাজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে গেছে। তারপরে হঠাৎ করেই ভেরিফিকেশনের জন্য তাদের একটি অ্যাপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই অ্যাপের ব্যবহার সম্বন্ধে আমরা অনেকেই ওয়াকিবহাল নই। আমরা মনে করছি ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে হাজার হাজার ভোটারের ফর্ম ভেরিফিকেশন করা আমাদের পক্ষে সহজ হবে না। তারা আরো বলেন, প্রথমে বলা হলো ফর্ম বিলি ও কালেকশন করতে বিএলওদের। এরপর বলা হলো সেই ফর্ম কালেকশান করার পরে ডিজিটাইজেশন করতে হবে। অথচ এই নিয়ে আমাদের কোন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।
নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে আমাদের উপর অমানবিক ও অমানুষিক নির্যাতন করছে। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেছি। বিডিও আমাদেরকে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, ভেরিফিকেশনের বিষয়টি যথেষ্ট সরল প্রক্রিয়া, এই নিয়ে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই। এরপর বিএলওরা তাদের বিক্ষোভ অবস্থান তুলে নেন এবং নিজেদের দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধতা আছে বলে জানান। প্রশাসনের এই আশ্বাস আমরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছি বলে বিএলওরা এদিন জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিডিও বলেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বিভিন্ন সময়ে মোবাইল অ্যাপ নিয়ে বিএলওদের যে ভয় ছিল তা কেটে যাবে বলে আমি আশাবাদী। বিএলওদের কাজে এখনো পর্যন্ত তেমন কোন রকম অসুবিধা হয়নি বলে। বিডিও আরো বলেন, এই পদে থেকে আমার তেমন কিছু করার নেই। গোটাটাই হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ও গাইডলাইন মতো।


