স্পর্শকাতর এলাকায় ঘুরছেন ডিএম ও সিপি, ভোটারদের আশ্বস্ত করতে মাইকিং
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমানের ৫২ টি এলাকায় বিগত তিনটি নির্বাচনে ২০২১, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বিভিন্ন সময়ে ভোটকেন্দ্রিক উত্তেজনা ও হামলার অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো সেই ৫২ টি এলাকা পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম ও আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার দফায় দফাই সেই সকল এলাকায় যাতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয় তারই লক্ষ্যের টানা প্রচার ও পরিদর্শন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল টিমকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কমিশনার ও জেলাশাসক পরিদর্শন করেন। জামুড়িয়া বিধানসভার বেশকিছু এলাকায় নির্বাচনের সময় গন্ডগোল ও উত্তেজনা হয় এবং সেখানে মারপিটের মতো ঘটনা ঘটেছিলো। জেলাশাসক বা ডিএম ও পুলিশ কমিশনার বা সিপি এইসব এলাকাগুলিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে মাইকে করে ভোটারদের ভোটদানের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানান।














কেন্দ্রীয় বাহিনীর টিম পরিদর্শন করে জামুড়িয়ার শ্রীপুর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বোগরা শ্রীপুর শিবডাঙ্গা সহ বেশ কয়েকটি অংশ। যেখানে বিগত সময়ে তিনটি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলার সময় উত্তেজনা হয়। সেই সব অংশ খতিয়ে দেখে সেই অংশে যাদের বিরুদ্ধে বা যাদের উপরে হামলা চালানো হয়েছে সেই সকল ব্যক্তিদের সাথে তারা কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে রানিগঞ্জ বিধানসভার জেমারি ও চলবলপুর এলাকায় নির্বাচনের সময়ে যে উত্তেজনাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সেই সকল অংশে পৌঁছান পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এদিন মাইকে করে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে টোল ফ্রি নম্বর জানানো হয়। যেখানে পুলিশ প্রশাসন কিংবা কেন্দ্রীয় বাহিনী কে কোন ভোটার ভোট দানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে ফোন করে নিজের অসুবিধের কথা জানাতে পারবেন বলেই জানানো হয়।
জানা গেছে, ১৯৫০ নম্বরে ফোন করে ভোটাররা কেউ তাদের প্রভাবিত করছে কিনা সে সকল জানানোর সাথেই কোন হুমকি বা কোন ভয় তাদের দেওয়া হলে সে বিষয় সম্পর্কে তারা কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে পার। সেই সঙ্গে পুরো বিষয়টি গোপনীয় রাখা হবে বলেই জানানো হয়েছে। শনিবার এ বিষয়ে জেলাশাসক বলেন, ভোটারদের ভোটদানের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমরা বদ্ধপরিকর। পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার বলেন, কোনরূপ কোন অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কোন রাজনৈতিক পরিচয় পরিচিতি কার্যকর হবে না। সকলকেই সমানভাবে প্রাধান্য দেওয়া হবে। শনিবার অনেকেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন নিয়মগুলি জেনে নেন। কোন কোন বিষয়গুলি তারা জানাতে পারবেন, কি কি এক্তিয়ার তাদের রয়েছে কোন সময় তারা পুলিশ প্রশাসন বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন সে সকল বিষয় সম্পর্কে জেনে নেন অনেকেই।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন এবারের এই নির্বাচন প্রক্রিয়া একেবারে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া করার জন্য তারা সচেষ্ট রয়েছেন। এদিনের এই কর্মসূচিতে জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার ছাড়াও বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্টাল) ধ্রুব দাস ও নিমচা ফাঁড়ির আইসি নাসরিন সুলতানা।এখন দেখার, পুলিশ প্রশাসনের এই বিশেষ প্রচার অভিযান কতটা কার্যকরী হয় ও কতটা ভয় মুক্ত ভাবে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন?

