প্রচার শেষ এবার নজরে ভোট, একে অপরকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয় বিধানসভায় মঙ্গলবার শেষ দিনের ভোট প্রচারে তীব্র রোদকে উপেক্ষা করে সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদেরকে ব্যস্ত ছিলেন । শেষ মুহূর্তে শাসক ও বিরোধী সব দল নিজেদের মতো করে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। এদিন রানিগঞ্জ এলাকার আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা কে সঙ্গে গিয়ে প্রচার চালান। রানিগঞ্জের গ্রামীন এলাকায় চলে এই প্রচার অভিযান। একইভাবে, রানিগঞ্জ শহর এলাকায় টলিউড অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দোপাধ্যায় শেষ বেলার প্রচারে ঝড় তোলেন।














এদিন রানিগঞ্জ স্টেশন থেকে সায়ন্তিকা তৃণমূল প্রার্থী কালো বরণ মন্ডলের সমর্থনে একটি রোড শো করেন। সেই রোডশো রানিগঞ্জ শহর পরিক্রমা করে। সায়ন্তিকা প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন জানান। সেই রোডশো থেকেই রানিগঞ্জের পীর বাবার মাজারে চাদর চড়াতেও যান সায়ন্তিকার সঙ্গেই তৃণমূল প্রার্থী কালো বরণ মন্ডল। এদিন রানিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী নারায়ণ বাউরি বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচি ও তাদের দলের ইস্তেহার বিলি করেন ভোটারদের মধ্যে। একইভাবে, আসানসোল উত্তরের তৃনমুল কংগ্রেসের মলয় ঘটক ও বিজেপির কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় শেষ দিনের ভোটের প্রচার বেশ জোর কদমে করেন।
অন্যদিকে, আগামী ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবারের প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে রাজ্য জুড়ে জারি হয়েছে করা সতর্কতা। দিকে দিকে চলছে নাকা চেকিং। কয়েকটি এলাকায় অন্যায় ভাবে ৫০ হাজার টাকার বেশি টাকা নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের টাকাও বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। বেশ কয়েক দফায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আর এই সকলের মাঝে নির্বাচনের চার দিন আগেই সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করে দিয়ে বেনজির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন নির্বাচন কমিশন। যদিও এই সবকিছুর মধ্যেও সুরাপ্রেমীদের কিন্তু যোগান বন্ধ হয়নি।
বেশ কয়েকটি অংশেই দ্বিগুণ দাম মদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গোটা বিষয়টি প্রশাসনের কাছে আসার পরই প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় অবৈধ মদের দোকানে অতর্কিত অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।এর পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলায় যান চলাচল প্রভাবিত হয়েছে এই নির্বাচনের কারণে। বেশ কিছু রুটের বাস নির্বাচনের কাজে নিয়ে নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন রুটের বহু বাসযাত্রী। একই সাথে কেন্দ্রীয় বাহিনী কড়া নজরদারি চারিদিকে চলার কারণে, এই সময় আইন-শৃংখলার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে।
যেকোন ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটার খবর পেলেই দ্রুত ঘটনার স্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে যাওয়ায় দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে। এর আগে নির্বাচনের সময় যে সমস্ত এলাকায় দাঙ্গা, হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছিল সেই সকল এলাকায় আধা সামরিক বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মাইকে করে সকলকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের তরফে।
পুলিশের আধিকারিকদের সাথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল টিম মাইকে করে প্রচার করছে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার একই সাথে টোল ফ্রি নাম্বারে ফোন করে নির্বাচনে প্রভাবিত করা প্রসঙ্গে সূচনা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আর এই সকলের সাথেই শেষ দিনের ভোট প্রচার যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয় সে বিষয়েও রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি।এদিন বিভিন্ন থানার তরফে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘন্টা নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

