পশ্চিম বর্ধমানে ৯ বিধানসভায় ৮৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়াইয়ে জেলায় ২৫৮৮ বুথে ভোটার ১৯ লক্ষ ৬৫ হাজারেরও বেশি
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমানের নয়টি আসনে আজ বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ হবে। জেলার নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৮৫ জন প্রার্থী এবারে নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছেন। সবকটি বিধানসভায় চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৪ জন প্রার্থী রয়েছে দুর্গাপুর পশ্চিমে। তারপর ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন আসানসোল উত্তরে। জেলায় সবচেয়ে কম প্রার্থী ৬ জন রয়েছেন কুলটি বিধানসভায়। পান্ডবেশ্বরে ১১ জন, দুর্গাপুর পূর্ব ও জামুড়িয়ায় ৯ জন, আসানসোল দক্ষিণ ও রানিগঞ্জে ৮ এবং বারাবনিতে ৭ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ের আছেন। রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ও মলয় ঘটক দুর্গাপুর পূর্ব ও আসানসোল উত্তর বিধানসভা থেকে লড়াই করছেন।














প্রদীপ মজুমদারের সঙ্গে বিজেপির চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায় ও মলয় ঘটকের সঙ্গে বিজেপির কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এবারের লড়াইয়ের রয়েছেন। এছাড়াও, নজরে থাকবেন যে সব প্রার্থীরা তারা হলেন কুলটিতে বিজেপির ডাঃ অজয় পোদ্দার ও তৃণমূলে অভিজিৎ ঘটক, বারাবনিতে তৃণমূলের বিধান উপাধ্যায় ও বিজেপির অরিজিৎ রায়, আসানসোল দক্ষিণের তৃণমূলের তাপস বন্দোপাধ্যায় ও বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল, জামুড়িয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের হরেরাম সিং ও বিজেপির ডাঃ বিজন মুখোপাধ্যায়, রানিগঞ্জে বিজেপির পার্থ ঘোষ ও তৃণমূলের কালোবরণ মন্ডল, পান্ডবেশ্বরে তৃণমূলের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও বিজেপির জিতেন্দ্র তেওয়ারি এবং দুর্গাপুর পশ্চিমে তৃণমূলের কবি দত্ত ও বিজেপির লক্ষণ চন্দ্র ঘোরুই।
এছাড়াও কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী, তরুণ রায় ও প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডির মতো জেলার প্রথমসারীর নেতারা এবার নির্বাচনের ময়দানে আছেন।বৃহস্পতিবার ২,৫৮৮টি ভোটকেন্দ্রে ১৯,৬৫,০৯৫ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না। ভোটগ্রহণের সময় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার এস পোন্নাবলম জানিয়েছেন, জেলায় মোট ২,৫৮৮টি ভোটকেন্দ্র বা বুথ) করা হচ্ছে।
এর মধ্যে ২,৫০৪টি প্রধান কেন্দ্র এবং ৮৪টি সহায়ক বা অক্সিলারী কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি বুথে চারজন করে ভোটকর্মী বা পোলিং পার্সেন থাকবেন। ভোটকর্মীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারের মতো হবে। এছাড়াও ৩০% অতিরিক্ত কর্মী রিজার্ভে রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে মোট প্রায় ১৪ হাজার ভোটকর্মী করয়েছেন। জেলায় ২৪৩টি মহিলা বুথ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে মডেল বুথ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় মোট ৯টি মডেল বুথ রয়েছে। জেলায় বিধানসভা ভিত্তিক এইরকম — ২৭৫ পাণ্ডবেশ্বরে বুথ ২৩৯ টি ও অক্সিলারি ১২ টি। সবমিলিয়ে ২৫১টি বুথ। ২৭৬ দুর্গাপুর পূর্বে বুথ ২৯১ টি ও ১৩ টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে বুথ ৩০৪ টি।
২৭৭ দুর্গাপুর পশ্চিমে বুথ ৩০৬ টি ও ৯ টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে ৩১৫ টি বুথ। ২৭৮ রানিগঞ্জে ২৮৬ টি বুথ ও ৬ টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে বুথ ২৯২ টি। ২৭৯ জামুরিয়ায় ২৪৯ টি বুথ ও ১১টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে বুথ ২৬০ টি। ২৮০ আসানসোল দক্ষিণে ৩০২ টি বুথ ও ১৩ টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে বুথ ৩১৫ টি। ২৮১ আসানসোল উত্তরে ৩০৭ টি বুথ ও ৬ টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে ৩১৩ টি বুথ। ২৮২ কুলটিতে ২৭০ টি বুথ ও ৫ টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে ২৭৫ টি বুথ। ২৮৩ বারাবনিতে ২৫৪ টি বুথ ও ৯ টি অক্সিলারি। সবমিলিয়ে ২৬৩ টি বুথ।
জেলায় বিধানসভা ভিত্তিক ভোটার —– পান্ডবেশ্বর ১,৮৮,৩৯০ জন, দুর্গাপুর পূর্ব ২,৩৭,১২৭ জন, দুর্গাপুর পশ্চিম ২,৩৮,৭০০ জন, রানিগঞ্জ ২,১৫,৯৯৪ জন, জামুড়িয়া ১,৯৬,৫৪৫ জন, আসানসোল দক্ষিণ ২,৩৯,০৩০ জন, আসানসোল উত্তর ২,৩৬,৮৫৮ জন, কুলটি ২,১০,৫৫৩ জন ও বারাবনি ২,০১,৮৯৮ জন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো ওয়েবকাস্টিং সমস্ত বুথের ১০০% কভার করবে। জেলায় নয়টি বিধানসভায় ২৫৮৮ টি বুথের জন্য সবমিলিয়ে ৫৪৫৫ টি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা বুথ এবং বিএলও উপস্থিত থাকবেন। একবারে বুথের ভিতরে সর্বোচ্চ ৪ জন ভোটার থাকতে পারবেন।মোবাইল ফোন ১০০ মিটারের মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। তা ভোটকেন্দ্রের আগে জমা দিতে হবে। ১০০ মিটারের মধ্যে রাজনৈতিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ।ভোটারদের নিয়ে যাওয়ার জন্য যানবাহন ব্যবহার নিষিদ্ধ।১০০ মিটারের মধ্যে পোস্টার/ব্যানার নিষিদ্ধ।

