প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা , প্রশিক্ষণ ছাড়াই একদিনের নোটিশে পড়লো ডাক, ভোট দিতে পারলেন না কয়েকশো “ভিএবি”
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার শেষে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফায় ১৬ টি জেলার ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি কেন্দ্র। বলতে গেলে, স্বাধীনতার পর থেকে হওয়া রাজ্য এখনো পর্যন্ত হওয়া সববু নির্বাচনের ভোট পড়ার শতাংশকে পেছনে ফেলে বৃহস্পতিবারের ভোট সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে। আরো বলতে গেলে, এবারের ভোট রক্তপাতহীন ও বড় কোন গন্ডগোল ছাড়াই হয়েছে। বলা হয়েছে, সবাই উৎসবের মেজাজে ৪২/৪৩ ডিগ্রির গরমকে পেছনে ফেলে গড়ে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু, যারা এই ভোটের অন্যতম অংশের হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোটের কাজে ছিলেন, সেই ” ভিএবি ” ভোটার এ্যাসিস্টেন্ট বুথ ” কর্মীরা বৃহস্পতিবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন নি।














জানা গেছে, মাত্র কয়েক ঘন্টা বা একদিনের নোটিশে কোন রকম ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ” ভোটার এ্যাসিসটেন্ট বুথ ” হিসাবে নিয়ে যাওয়া রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের। তাদের মধ্যে স্কুলের শিক্ষিকারাও আছেন। এই সংখ্যাটা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কয়েকশো। অভিযোগ, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানোর পরে অনেকেই টাকা পাননি। কাউকে ৫৬০ টাকা, কাউকে আবার ২৬০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আরো জানা গেছে, তাদেরকে সিভিক পুলিশর মতো প্রচন্ড পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুক্রবার সকালে তারা বাড়িতে ফিরেছেন। ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো পশ্চিম বর্ধমানের ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিস থেকে ভোটার এ্যাসিসটেন্ট বুথের একটা তালিকা হেড অফ দ্যা ইন্সটিটিউশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, কর্মীরা যেন বুধবার সকালে ডিসিআরসি বা বুথে পৌঁছে যায়। তারপর সেখান থেকে ঐ কর্মীদের তাদের পরিচয় পত্র দেওয়া হয়। সেই পরিচয় পত্রের নিচে লেখা আছে, এই কাগজ ভোট দেওয়ার পরিচয় পত্র হিসেবে গ্রাহ্য হবে না।
এই ” ভিএবি” র কাজে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে ছিলেন আসানসোল ইস্টার্ন রেলওয়ে বয়েজ হাইস্কুলের শিক্ষক সমাজকর্মী বিশ্বনাথ মিত্রর স্ত্রীও। তিনি বলেন, মোট ৩০০ জনকে পাঠানো হয়েছিলো। এই তিনশো জন ভোট কর্মী ভোট দিতে পারলেন না। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মধ্যে একটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এরজন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন না। তিনি আরো বলেন, আমার স্ত্রী সহ প্রচুর রেল কর্মীকে রাতারাতি প্রায় বাড়ি থেকে একপ্রকার উঠিয়ে ভিএবি হিসাবে বীরভূম, বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল। ৪০/৪৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় প্রত্যন্ত গ্রামে গত দুদিন রোদে তারা তাদের ভোটের ডিউটি পালন করলেন। অথচ তাদের কাউকেই ভোট দেওয়ার ন্যূনতম সুযোগ টুকু দেওয়া হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৩০০ জন ভোট দিতে পারেননি। আরো একটি নির্মম বিষয় অনেকেই একটা টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অথচ তাদের দুরদূরান্তে এই গরমে রোদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তাদের মধ্যে কারোর বয়স ৫৯, আবার কারো বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। অভিযোগ, অনেক বুথে ” ভিএবি” দের বসার জায়গাও নাকি ছিলো না।আরো, অভিযোগ, বুথের দায়িত্বে থাকা সেক্টর অফিসার ও বিএলওর কাছে তদবির করেও, তারা এই বছর ভোট দিতে পারলেন না। কাউকে ভোট দেবার কোনরকম সুযোগ দেওয়া হয়নি বা টেন্ডার ব্যালট প্রদান করা হয়নি।এদিকে, এখন যা পরিস্থিতি (এসআইআর জনিত) তাতে পরবর্তী সময়ে তাদের ভোটার লিস্ট থেকে নাম কেটেও যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় তারা তাদের সাংবিধানিক অধিকার টুকু প্রয়োগ করতে পারলেন না। পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের তরফে বলা হয়েছে, এই দায়িত্ব তারা নেবে না। একই কথা বলা হয়েছে, অন্য সরকারি দপ্তরের তরফেও। তাহলে এর দায় কে নেবে?জানা গেছে, বিশ্বনাথ মিত্র গোটা বিষয়টি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারকে মেইল করেছেন। নির্বাচন কমিশনারের কন্ট্রোলরুমে তিনি ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেখান থেকে বলা হয়েছে, দেখছি ও দেখবো। তিনি বলেন, ভোটের কাজে যাওয়া এই ভোট কর্মীদের জন্য নতুন করে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এর পাশাপাশি যারা এই অব্যবস্থার জন্য দায়ী তাদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।গোটা বিষয়টি নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিস ও নির্বাচন কমিশন থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

