আসানসোল জেলা হাসপাতালে রোগী কল্যান সমিতির বৈঠকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ, দিলেন নির্দেশ
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার একমাসের মধ্যেই আসানসোল জেলা ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নিয়ে বৈঠক করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা হাসপাতালে কনফারেন্স হলে হওয়া এই বৈঠকে মন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ ডাঃ ইউনুস খান, আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস, ডেপুটি সুপার, সহকারী সুপাররা। এছাড়াও ছিলেন চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ ও পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা।













বৈঠকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জেলা হাসপাতালের সামগ্রিক চিত্রটা বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি বৈঠকে সুপার ও অন্য চিকিৎসক নার্স এবং কর্মীদের সঙ্গে বিস্তারিত ভাবে কথা বলেন। মন্ত্রী হাসপাতালের মর্গ, ট্রমা কেয়ার সেন্টার, বেশ কিছু চিকিৎসকের অনিয়মিত আসা, ঔষধের দোকান, নিরাপত্তা সহ একাধিক বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সবকিছু ঠিক করে জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিসেবা মানুষেরা পান, তার নির্দেশ তিনি সুপারকে দেন। কিছু বিষয় দেখার জন্য তিনি ডিএমকে বলেন। বাকি কিছু বিষয় নিয়ে তিনি নিজে স্বাস্থ্য সচিব ও অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক চিকিৎসক সপ্তাহে ঠিক মতো ডিউটি করেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তৃণমূল জমানায় এইসব চলতে পারে। কিন্তু বিজেপি সরকারে তা চলবে না। সরকারি নির্দেশ মেনে সবাইকে ডিউটি করতে হবে। অনেক নার্স ও কর্মী আছেন, যারা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এইসব কিছু বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে একটা ট্রমা কেয়ার সেন্টার তৈরির কথা ছিলো। এ্যাম্বুলেন্স সহ অন্য সামগ্রী তারজন্য আনা হয়েছিলো। কিন্তু এখানে তা না হয়ে তা, সিঙ্গুরে চলে যায়। ডিএমের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি এই ট্রমা কেয়ার সেন্টার জাতীয় সড়কের পাশে হলে ভালো হয়।
কেননা, বেশির ভাগ দুর্ঘটনা জাতীয় সড়কে হয়। এই বিষয়টা নিয়ে আমি স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলবো। এই হাসপাতালে সুলভ মূল্যে ঔষধের দোকান ছিলো। কিন্তু পরে সেই দোকানের মালিক টেন্ডারের মাধ্যমে পাননি। কিন্তু, তারপরেও তিনি তা ছাড়েননি। ফেলে টেন্ডারে পাওয়া লোক সেটি খুলতে পারছেন না। আমি পুলিশকে বলেছি আগের দোকান মালিককে দুদিনের মধ্যে তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলতে। সে তা করলে, তাকে বার করে দেওয়া হোক।


