তৃণমূলের হারে পশ্চিম বর্ধমানের জেলা সভাপতিকে নিশানা, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট প্রাক্তন যুব সভাপতির
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলা রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটালেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন যুব সংগঠনের সভাপতি কৌশিক মন্ডল। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি তথা এবারের নির্বাচন পান্ডবেশ্বর থেকে পরাজিত নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।নিজের পোস্টে কৌশিক মন্ডল বলেছেন, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে “শূন্যে” পৌঁছানোর জন্য নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।














একইসঙ্গে তিনি লিখেছেন আপনার ” অহংকার ” আপনার “তোলাবাজি” ও আপনার “অত্যাচার” মানুষ মেনে নেয়নি, এটা প্রমাণ হয়ে গেলো। তিনি পোস্টে আরো লিখেছেন, পুরনো কর্মীদের দলের পদ থেকে সরিয়ে বাড়িতে বসিয়ে রাখার পরিনাম আজকে দল ভোগ করছে। আপনার তোলাবাজি করার জন্য নিজের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটার মাসুল আজকে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিতে হচ্ছে। এইভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের এই যুব নেতা সংগঠনের ভেতরে বিভাজনের জন্য সরাসরি জেলা নেতৃত্বকেই দায়ী করছেন। তার দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে দলের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বহু কর্মী হতাশ হয়েছেন।
পোস্টের শেষে তিনি দলনেত্রী তথা সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ট্যাগ করে করেছেন। যা রাজনৈতিক মহলে আরো জল্পনা বাড়িয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতার এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলা রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হতে শুরু করেছে।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই ধরনের প্রকাশ্য ক্ষোভ দলীয় ঐক্য ও সংগঠনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
একইসঙ্গে গোটা বিষয়টি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও কোন্দলকে সামনে নিয়ে এসেছে।এই পোস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অবস্থান কি হয়, সেদিকেই এখন নজর জেলার রাজনৈতিক মহলের।প্রসঙ্গতঃ, এবারের নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ৯-০ হয়ে গেছে।

